দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযান ও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজনীতির আবহে মুখ খুললেন হেমা মালিনী

দিল্লির রাজপথে সোমবার এক উত্তাল পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল দেশ। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আকস্মিক সংসদ অভিযানের ডাককে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই আন্দোলন দমাতে প্রশাসন পাঁচ হাজার পুলিশ ও আধা সেনার বিশাল বাহিনী মোতায়েন করলে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকালে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় প্রতিবাদী জনতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে তুমুল ধস্তাধস্তি হয়।
এই আন্দোলনের উত্তাপ সরাসরি আছড়ে পড়ে সংসদের বাদল অধিবেশনে। রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি বিনোদন দুনিয়াতেও এই ঘটনা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। বিজেপির প্রবীণ সাংসদ ও বলিউড ড্রিম গার্ল হেমা মালিনী এই বিক্ষোভের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, অশান্তি ছড়ানো কোনো সমস্যার সমাধান নয়। আলোচনার মাধ্যমে সব বিষয়ে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার সর্বদা দেশের যুবসমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।
এদিকে, রাজপথে এই আন্দোলনের সমর্থনে তারকাবহুল উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রখ্যাত অভিনেতা প্রকাশ রাজ, কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা আজমি এবং মডেল পুনম পাণ্ডের মতো তারকারা যন্তর মন্তরে উপস্থিত হয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন। আন্দোলনের মঞ্চে প্রকাশ রাজের রাজনৈতিক সংহতির পাশাপাশি, শাবানা আজমিকে প্রতিবাদকারীদের পরম মমতায় আলিঙ্গন করতে দেখা গেছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে, এই অস্থিরতার মাঝেই এল স্বস্তির খবর। গত আঠারো জুলাই থেকে সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁর অনুরোধে অনশন ভাঙলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সোনম ওয়াংচুকের দীর্ঘ একুশ দিনের অনশনের পর শারীরিক সংকটের কারণে দীপকে নিজের অনশন শুরু করেছিলেন। তবে প্রিয় কর্মীর শারীরিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে অবশেষে তিনি অনশন থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন।