শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে জিপিএ ৫ পেল অদম্য ইয়াসার

শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের পলাশতলী গ্রামের অদম্য কিশোর ইয়াসার ইসলাম নিরব এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ অর্জন করেছে। দুই হাতের কবজি বাঁকা হওয়ায় দৈনন্দিন নানা কাজে অন্যের সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল থাকলেও, প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সে এই অনন্য সাফল্য ছিনিয়ে এনেছে।
কৃষক সিরাজুল ইসলাম ও খাদিজা খাতুন দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে সবার বড় নিরবের জন্মগত শারীরিক সীমাবদ্ধতা তার চলার পথকে সংকুচিত করতে পারেনি। এক বছর বয়স থেকে তার দুই হাতের কবজি অস্বাভাবিকভাবে বাঁকতে শুরু করলে চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক চেষ্টা করা হলেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। একা চলাচলের সক্ষমতা না থাকলেও বাবার কোলে চড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদার্পণ করা নিরব কখনোই হাল ছাড়েনি।
পলাশতলী আমিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনার পাঠ চুকানোর সময়গুলোতে কখনো বাবা-মা, আবার কখনো শিক্ষক বা সহপাঠীরা হুইলচেয়ারে করে তাকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যেতেন। সহপাঠীদের উপহাস কিংবা শারীরিক যন্ত্রণাকে তুচ্ছ করে বাম হাতে কলম চালিয়ে সে অবিরাম লিখে গেছে সাফল্যের গল্প। গৃহশিক্ষক ছাড়াই নিজের মেধা ও একাগ্রতার ওপর ভর করে অর্জিত এই জিপিএ ৫ এলাকাবাসীর মধ্যে দারুণ উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
ভবিষ্যতে এমবিবিএস ডাক্তার হয়ে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে নিরব। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম সাইফুল ইসলাম জানান, মেধাবী এই ছাত্রের স্বপ্ন পূরণে সরকারি ও বিত্তবানদের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম সোহাগ ইতিমধ্যে নিরবের বাড়িতে গিয়ে তাকে হুইলচেয়ার, নগদ অর্থ ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং তার উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
