বাবা-মায়ের প্রয়াণের শোক জয় করে অদম্য মেধাবী নোভিদের জিপিএ-৫ অর্জন

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের পলিশা গ্রামে শোক আর সাফল্যের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মেধাবী শিক্ষার্থী সাদিক হোসেন নোভিদ। গত এক বছরের ব্যবধানে মা ও বাবাকে হারিয়ে অনাথ হওয়ার পরও অদম্য মানসিক শক্তির পরিচয় দিয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে। নোভিদ প্রয়াত শিক্ষক দম্পতি সুজাউদ্দিন সুজা ও কামরুন্নাহার এলিনার একমাত্র সন্তান।
মায়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই এসএসসি পরীক্ষার চলাকালীন নোভিদের জীবনে নেমে আসে চরম বিপর্যয়। গত ২০ মে তার জীববিজ্ঞান পরীক্ষার দিন সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন বাবা সুজাউদ্দিন সুজা। ছেলের পরীক্ষায় যেন ব্যাঘাত না ঘটে, সেজন্য পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত কৌশলে সেই সকালে বাবার মৃত্যুর খবরটি তার কাছ থেকে গোপন রাখেন। পরীক্ষা শেষ করে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পর নোভিদ জানতে পারে, পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চিরবিদায় নিয়েছেন তার বাবা।
বাবার জানাজা ও দাফন শেষে শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে নোভিদ পুনরায় পাঠ্যবইয়ে মনোনিবেশ করে। জামালপুরের ইউনাইটেড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এই শিক্ষার্থী বুকভরা কষ্ট নিয়েও পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেয়। তার বাবা পলিশা উচ্চ বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক ছিলেন এবং মা কামরুন্নাহার এলিনা মেলান্দহের একটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নোভিদ জানায়, বাবা-মা বেঁচে থাকলে তার এই ফলাফলে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হতেন। সে সকলের কাছে তার বাবা-মায়ের জন্য দোয়া চেয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণের সংকল্প ব্যক্ত করেছে।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী জানান, নোভিদের এই সাফল্য অত্যন্ত গর্বের ও অনুপ্রেরণাদায়ক। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, নোভিদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
