সাতক্ষীরায় কলেজছাত্র জাকারিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

সাতক্ষীরায় কলেজছাত্র মো. জাকারিয়া খান (১৯) হত্যা মামলার প্রধান আসামি নাহিদ হাসান (২৬) ও তদন্তে সন্দেহভাজন অমিত হাসান ওরফে শিপনকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী শুইলপুর গ্রামে সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ অভিযানে শিপনের বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার নাহিদ হাসান সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা পশ্চিমপাড়া মানিকতলা এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে এবং অমিত হাসান ওরফে শিপন মো. হুমায়ুন কবিরের ছেলে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে থানা ও ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল রাতে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল মোড়ের একটি চায়ের দোকানে পূর্ববিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন কলেজছাত্র জাকারিয়া খান। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক হত্যাকাдের ঘটনায় নিহতের ভাই মো. শাহারিয়ার খান বাদী হয়ে শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি নাহিদ হাসানসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার তদন্তকারী সূত্র জানায়, এর আগে মামলার এজাহারভুক্ত অপর আসামি মুহিদ হাসান বনিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। সর্বশেষ যৌথ অভিযানে প্রধান আসামি ও সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলো।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, চাঞ্চল্যকর জাকারিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ দুইজনকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহত কলেজছাত্রের শোকাহত পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

০%
০%
০%
০%