টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ময়দান—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ পদ থেকে হঠাৎ ইস্তফা দেওয়ার পর সোমবার কোয়েল আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন এবং চমকপ্রদভাবে দলটির রাজ্যসভা প্রার্থিপদের টিকিটও লুফে নেন। রাজনীতির এই নাটকীয় পটপরিবর্তন এবং টলিউড তারকার আকস্মিক পদ্মশিবিরে যোগদান নিয়ে যখন রাজ্যজুড়ে তোলপাড় চলছে, ঠিক তখনই বিষয়টি ভালোভাবে নেননি তাঁর সহকর্মী ও অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র।
কোয়েলের এই রাজনৈতিক ডিগবাজি এবং রাজ্যসভায় পুনর্বহালের প্রেক্ষাপটে সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একহাত নেন রূপাঞ্জনা মিত্র। যদিও পোস্টে তিনি সরাসরি কোয়েলের নাম উচ্চারণ করেননি, তবে তাঁর প্রতিটি ছত্রে কোয়েলের দলবদল, ইন্ডাস্ট্রির দ্বিচারিতা এবং তথাকথিত ভাবমূর্তি পাল্টানোর প্রচেষ্টাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। বিশেষ করে, সংসদীয় রাজনীতির ব্যাকরণ না জেনেও এভাবে সুযোগ পাওয়ার ঘটনাকে ‘প্যারাশুট ল্যান্ডিং’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি।
রূপাঞ্জনার ক্ষোভের বড় একটি অংশ জুড়ে ছিল অতীতে ঘটা একটি ঘটনার নীরব প্রতিবাদ। অতীতে কোয়েল অভিনীত মিতিন মাসি চলচ্চিত্রের শুটিং ফ্লোরে পরিচালক অরিন্দম শীলের বিরুদ্ধে এক তরুণী অভিনেত্রীকে হেনস্থা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। সেই সংবেদনশীল সময়ে কোয়েল মল্লিকের মতো প্রথম সারির তারকার নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রূপাঞ্জনা। সহকর্মীর দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানোর বদলে ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষ নেতৃত্বের এই উদাসীনতা এবং কোয়েলের সুবিধাবাদী অবস্থানকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় ধুয়ে দিয়েছেন তিনি।
পোস্টের শেষভাগে এসে টলিউডের ক্ষমতা কাঠামোগত তোষামোদ, বকেয়া পারিশ্রমিক এবং জন্মসূত্রে পাওয়া পারিবারিক ইমিউনিটি বা সুরক্ষার বিষয়টিও জোরালোভাবে তুলে আনেন রূপাঞ্জনা। ২০১৯ সালের রাজনৈতিক মেরুকরণের তিক্ত স্মৃতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, সময়ের চাকা সবসময় ঘোরে এবং সুবিধাবাদীদের আসল রূপ তিনি ভোলেননি। কোয়েলের এই দলবদল এবং সহকর্মীদের তোষামোদ করার প্রবণতাকে বিদ্রূপ করে তিনি লেখেন, এত তেল ঢালার পর শেষ পর্যন্ত গাড়ি কোথায় গিয়ে থামে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।