আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ঈশান কিষাণের দুর্দান্ত ফর্ম লাল বলের ক্রিকেটেও তার ফেরার সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করে তুলেছে। নভেম্বরের শেষের দিকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজকে সামনে রেখে নির্বাচক কমিটির আসন্ন সভায় ঈশানের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে জোর আলোচনা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে তার সাম্প্রতিক আধিপত্য নির্বাচকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
দিলীপ ট্রফিতে ঈশানের পারফরম্যান্স ছিল চোখ ধাঁধানো। ইষ্ট জোনের অধিনায়ক হিসেবে ফাইনাল ম্যাচে তিনি ২৭০ এবং ৮০ রানের দুটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলকে শিরোপা জেতানোয় নেতৃত্ব দেন। টুর্নামেন্টের তিন ম্যাচে ১০০-এর বেশি গড়ে ৪০৯ রান সংগ্রহ করে তিনি নিজেকে আবারও লাল বলের উপযোগী হিসেবে প্রমাণ করেছেন। ফাইনাল ম্যাচে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতা ঈশান শুধু সাদা বলের ফরম্যাটেই নয়, টেস্টেও নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে মরিয়া। ২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ১০০০৫ রান নিয়ে তিনি তালিকার শীর্ষে থাকলেও, টেস্ট দলে জায়গা করে নেওয়াটা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচকদের সামনে এখন উইকেটরক্ষক ব্যাটার হিসেবে একাধিক বিকল্প রয়েছে। দলে ঋষভ পন্ত ও ধ্রুব জুরেলের উপস্থিতি ঈশানের পথ কিছুটা কঠিন করলেও, টিম ম্যানেজমেন্টের একটি বড় অংশ ঈশানের অন্তর্ভুক্তিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে স্পেশালিস্ট ব্যাটার হিসেবে খেলার সক্ষমতা থাকায় উইকেটরক্ষক কোটার বাইরেও তাকে দলে রাখার দাবি জোরালো হচ্ছে। আসন্ন সপ্তাহে নির্বাচকদের বৈঠকে এই তিন উইকেটরক্ষকের সমীকরণ মেলানোই হবে অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়।
নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনকে মাথায় রেখে পেস বোলিং লাইনআপ সাজানো নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ইরানি কাপে দুর্দান্ত বোলিং করে আলোচনায় আসা মুকেশ কুমার ১২ উইকেট নিয়ে দিলীপ ট্রফি শেষ করেছেন, যা তাকে দৌড়ে অনেক এগিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে আকাশ দীপকে নিউজিল্যান্ডের পিচে কার্যকর বোলার হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া জসপ্রিত বুমরাহ, মোহাম্মদ সিরাজ ও গুরনুর ব্রারের জায়গা প্রায় নিশ্চিত হলেও হার্শিত রানা ও প্রসিধ কৃষ্ণার ফিটনেস পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
নির্বাচক কমিটির পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে ভারত দলের চূড়ান্ত রূপরেখা। শুভমান গিলের নেতৃত্বে গত বছর ইংল্যান্ড সফর করা অধিকাংশ খেলোয়াড়ই বিবেচনায় থাকবেন, যদি না ইনজুরি তাদের বাধা হয়ে দাঁড়ায়। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দুই টেস্টের এই সিরিজটি ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে, যেখানে ব্যাটিং গভীরতা ও পেস আক্রমণের ভারসাম্যই জয়ের চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করবে। ঈশান কিষাণের মতো ফর্মে থাকা খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া হবে কি না, তা জানতে ভক্তদের চোখ এখন নির্বাচকদের সভার দিকে।