মানিকগঞ্জে জোড়া খুনের দায়ে দেবর সোলাইমানের মৃত্যুদণ্ড

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে ভাবি ও শিশু ভাতিজাকে চাঞ্চল্যকরভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে দেবর সোলাইমান হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস. কে. এম. তোফায়েল হাসান এই রায় ঘোষণা করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে সাটুরিয়া উপজেলার উত্তর কাউন্নারা গ্রামে এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আসামি সোলাইমান হোসেনের সঙ্গে তার ভাবি পারভীনের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরবর্তীতে পারভীন সোলাইমানকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে উভয়ের মধ্যে তীব্র বিরোধ ও মনোমালিন্য শুরু হয়। এরই জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে সোলাইমান পারভীনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। এ সময় পুরো হত্যাকাণ্ডটি দেখে ফেলায় পারভীনের অবুঝ শিশু সন্তান ও নিজের ভাতিজা আব্দুন নূরকেও নৃশংসভাবে হত্যা করেন সোলাইমান।

হত্যাকাণ্ডের পর পরই পুলিশি অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য বেরিয়ে আসে। পুলিশ অভিযুক্ত দেবর সোলাইমান হোসেনকে গ্রেপ্তার করলে তিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করলেন।

তবে রায়ের পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন উভয় পক্ষের আইনজীবীরা। মানিকগঞ্জ জেলা জজ কোর্টের পিপি আ. ফ. ম. নুরতাজ আলম বাহার দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে রায় ঘোষিত হলেও এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, দোষী ব্যক্তির অপরাধের তুলনায় এই সাজা অত্যন্ত অপর্যাপ্ত। এই রায়ে বাদীপক্ষ মোটেও সন্তুষ্ট নয় এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তির প্রত্যাশায় উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুল ইসলাম রায় নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন মত পোষণ করে বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তার (আইও) কার্যক্রমের ওপর যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে এবং এখানে সঠিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়নি। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মূল ছুরিটি ফরেনসিক টেস্ট সম্পন্ন করার পর আদালতে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি দাবি করে তিনি এই রায়ে সংক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেন এবং ন্যায়বিচার পেতে উচ্চ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

০%
০%
০%
০%