ভোলার লালমোহন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভাড়া বাসা থেকে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (৪৮) নামের এক দলিল লেখকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ভোলার চরফ্যাশন সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক এবং চরফ্যাশন দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি চরফ্যাশন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নাল আবেদিনের ছেলে। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বিকেলে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ১৩ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে পরপর দুটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমাকে হারানোর সবচেয়ে সহজ উপায়—আমাকে অসম্মান করা। অন্যায় সহ্য করতে পারি, অবহেলাতেও ফিরে আসতে পারি। ভালোবাসার জন্য অনেক কিছু মেনে নিতে পারি। কিন্তু আত্মমর্যাদায় আঘাত করলে—আমি নিঃশব্দে শেষ হয়ে যাবো। যেভাবে ইতিহাস হারিয়ে যায়, যেভাবে মায়ের কোল থেকে হারিয়ে যায় ছোট্ট শিশু। আল্লাহ সহায়, আল্লাহ উত্তম বিচারক।’ অপর পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘কারও সম্মান রক্ষার জন্য কখনও নিজের অস্তিত্ব বিলীন করে দেবে না। একদিন সে এসে আপনাকেই বিলীন করে দেবে।’
রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী নাহিদা পারভীনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান মাহমুদ। পরবর্তীতে উভয়েই নিজ নিজ প্রথম সংসার ভেঙে ২০২৩ সালে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং লালমোহন পৌর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। প্রায় তিন বছর ধরে তারা সেখানে বসবাস করছিলেন এবং তাদের ঘরে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। নিহতের বাবা জয়নাল আবেদিনের দাবি, দ্বিতীয় স্ত্রী নাহিদা মাহমুদকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে দিতেন না। শুক্রবার সকালে নাহিদা মুঠোফোনে মাহমুদ আত্মহত্যা করেছেন বলে সংবাদ জানান। তবে এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, মাহমুদকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নাহিদা পারভীনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। বর্তমানে তিনি তজুমদ্দিন সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
লালমোহন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতাহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার বিকেলে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে নিহতের পরিবার এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার দাবি করেছে।