ঠাকুরগাঁও জেলায় পুলিশ সুপার কার্যালয় সংলগ্ন একটি টিনশেড ঘরে পরিচালিত গোপন জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হলপাড়াস্থ পুলিশ সুপার কার্যালয় সংলগ্ন ওই টিনশেড রুমে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। অভিযান চলাকালে ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানা আহত হয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপার কার্যালয় সংলগ্ন ওই টিনশেড ঘরে নিয়মিত জুয়ার আসর বসত। সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানার টহল দল জানতে পারে সেখানে জুয়া খেলা চলছে। এই খবরের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আলমগীর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার নেতৃত্বে একটি দল সেখানে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়াড়িরা পালানোর চেষ্টা করলে বাধা দিতে গিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল রানা হাতে আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন এবং তার ডান হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে চার পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে খেলার তাস, জুয়ার বোর্ডে থাকা নগদ টাকা ও কয়েকটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ঘটনাস্থলের পাশ থেকে চারটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন—ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত সহকারী উপপরিদর্শক শান্তি কুমার রায়, কনস্টেবল মো. সোহেল রানা, কনস্টেবল আলমগীর কবির এবং সদর ফাঁড়িতে কর্মরত সহকারী উপপরিদর্শক মো. শাহাদত জামান। তবে অভিযানের সময় পঞ্চগড় জেলা পুলিশের সহকারী টাউন উপপরিদর্শক আতাউর রহমান এবং পিবিআই ঠাকুরগাঁওয়ের কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক মো. লিখন হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২০২৬ সালের জুয়া প্রতিরোধ আইনের ১৫ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩২৩ ও ৩২৫ ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুজিত কুমার পাল জানান, অপরাধের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। গ্রেপ্তার চারজনকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং পলাতক অপর দুজনকে গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. খোদাদাদ হোসেন জানান, নিয়মিত মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে পুলিশের কিছু বিপথগামী সদস্যের জুয়া খেলায় জড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সাধারণ অপরাধীদের মতোই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বুধবার তাদের আদালতে হস্তান্তর করা হবে।