সুন্দরবনের জলদস্যু ও বনদস্যু দমনের লক্ষ্যে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে পাঁচটি বাহিনীর ৫৯ জন সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন। এই আত্মসমর্পণের পর র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের পরিচালিত চিরুনি অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৪টি খালি কার্তুজ এবং সাতটি ওয়াকিটকি।
বুধবার সকালে খুলনা র্যাব-৬ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব ফোর্সেসের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে র্যাব, কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ, বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে ‘অপারেশন রি-স্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ শীর্ষক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানের ধারাবাহিকতায় প্রতিকূল পরিবেশ ও অপরাধমূলক জীবনের অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পেতে দস্যুরা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ বেছে নিয়েছে।
গত ৩১ আগস্ট আত্মসমর্পণ করা দস্যুদের মধ্যে ‘বড় জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর ১৬ জন, ‘আনারুল’ বাহিনীর ১৩ জন, ‘আফজাল ওরফে দুলাভাই’ বাহিনীর ১৫ জন, ‘আফতাব’ বাহিনীর আটজন এবং ‘মিজান’ বাহিনীর সাতজন সদস্য রয়েছেন। আত্মসমর্পণ-পরবর্তী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বনের দুর্গম এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারটি শর্টগান, ৪৭টি ওয়ান শুটারগান, চারটি পাইপগান, তিনটি এয়ারগান ও একটি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেলসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও যোগাযোগ সরঞ্জাম জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বনবিভাগের তথ্যমতে, বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশাধিকার বন্ধ ছিল। বন উন্মুক্ত করার ঠিক আগের দিন দস্যুদের এই আত্মসমর্পণ বনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে বনজীবী ও পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
র্যাব মহাপরিচালক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যারা এখনো দস্যুতার সঙ্গে জড়িত, তারা অবিলম্বে আত্মসমর্পণ করে আলোর পথে ফিরে না এলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। অপরাধ দমন ছাড়াও অপরাধীদের মানবিক পথে ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।