কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে মামলা করায় প্রতিপক্ষের দায়ের করা পাল্টা মামলায় দেড় বছরের শিশুকন্যাকে নিয়ে কারাগারে কাটাতে হয়েছে গৃহবধূ ফাতেমা বেগমকে। এ ঘটনায় তার স্কুলপড়ুয়া দুই মেয়েকে আশ্রয় নিতে হয়েছিল স্থানীয় এতিমখানায়।
২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের কবির বাজারে ফিশিংবোট শ্রমিক মুহাম্মদ কাশেমকে তাড়া করে বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন নিহতের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ প্রধান অভিযুক্তসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
নিহত কাশেমের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, মামলা করার পর থেকেই তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন এবং আসামিরা মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। এই বিষয়ে নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার এক মাস পর প্রতিপক্ষের করা একটি পাল্টা মামলায় ফাতেমা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
গত ৩১ আগস্ট পুলিশ ফাতেমা বেগম, তার শাশুড়ি ও এক মেয়েকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত শাশুড়ি ও এক মেয়েকে জামিন দিলেও ১৫ মাসের শিশুকন্যাসহ ফাতেমাকে কারাগারে পাঠান। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের মহেশখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইনের আদালত ১ হাজার টাকা বন্ডে ফাতেমার জামিন মঞ্জুর করলে তিনি কারামুক্ত হন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, স্বামী হত্যার বিচার চাওয়ায় এবং পরিবারকে চাপে রাখতে প্রতিপক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই মিথ্যা মামলা সাজিয়েছে। নৃশংস এই স্বামী হত্যার দ্রুত বিচার এবং মিথ্যা মামলার হয়রানি থেকে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।