চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার নামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, একাডেমিক সুপারভাইজার এবং মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির যোগসাজশে এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে উপজেলার ৬৩টি স্কুল, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ২ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়েছে। ছিদ্দিকা বেগম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল হক পাটোয়ারী জানান যে শিক্ষা অফিস ও একাডেমিক সুপারভাইজারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই এই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান অভিযোগ করেছেন যে, বিভিন্ন সময় নানা কর্মসূচির নামে তাদের ওপর নির্দিষ্ট অঙ্কের চাঁদা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। ওটারচর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন এবং নিশ্চিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আরিফ উল্লাহ নিশ্চিত করেছেন যে রসিদ দিয়েই তাদের কাছ থেকে এই চাঁদা আদায় করা হয়েছে।
উত্তোলিত এসব অর্থের কোনো স্বচ্ছ হিসাব বা নিয়মিত রেজুলেশন না থাকায় শিক্ষক মহলে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। অভিযুক্ত ধনাগোদা তালতলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফারুকুল আলম সবার সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বললেও ব্যয়ের বিষয়ে কোনো সদুত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এ কে এম জাহাঙ্গীর আলম অতিরিক্ত টাকা তোলার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি জানিয়েছেন যে রসিদ দিয়ে এভাবে চাঁদা উত্তোলনের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ অজ্ঞ রয়েছেন।