রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর পক্ষে সাফাই গেয়ে এবং ঘুষ নিয়ে চার্জশিট থেকে নাম বাদ দিয়ে তাকে বিদেশে পালানোর সুযোগ করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ অনিয়মের অভিযোগ এনে গত ৮ সেপ্টেম্বর রংপুর বিভাগীয় কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক দিলারা রহমান এবং উপ-পরিদর্শক মেহেদুল ইসলাম সরদার। বিদেশে পালিয়ে যাওয়া মাদক সম্রাট মোর্ছালিন মিয়া মিঠাপুকুর উপজেলার বালুচর কাশিনাথপুর এলাকার হাতিমপুর গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে। মাদক ব্যবসা করে তিনি নিজ এলাকায় বিশাল বাড়ি ও কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি অর্জনের পাশাপাশি ঢাকায় কয়েকটি ফ্ল্যাট কিনেছেন।
গত বছরের ৮ জুলাই রংপুর বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের একটি দল মিঠাপুকুর উপজেলার রাণীপুকুর এলাকা থেকে ৯ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। ওই অভিযানে মূল অভিযুক্ত মোর্ছালিন মিয়া পালিয়ে গেলেও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মেহেদুল ইসলাম সরদার ও উপপরিচালক দিলারা রহমানের যোগসাজশে চার্জশিটে তাকে কৌশলগতভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া আদালতের কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় এবং মামলার হাজিরা দেওয়ার নির্ধারিত তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর থাকলেও গত ২১ আগস্ট মোর্ছালিন ওমরা ভিসায় সৌদি আরব পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক মেহেদুল ইসলাম সরদার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান যে তারা চার্জশিট দাখিল পর্যন্ত কাজ করেন এবং আসামি কোথায় থাকে তা তাদের জানা থাকে না। অন্যদিকে উপপরিচালক দিলারা রহমান জানিয়েছেন যে অভিযোগগুলো নিয়ে তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলবেন এবং আদালত অবজারভেশন দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনের দায়ে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা।