কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় টিফিন বিরতির সময় বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে অবস্থিত একটি রেইনট্রি গাছে বজ্রপাতের ঘটনায় ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির সাত শিক্ষার্থী আকস্মিক আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কোদালিয়া সহরুল্লাহ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বজ্রপাতের তীব্র শব্দ ও আলোয় তিন ছাত্রী তাৎক্ষণিকভাবে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
আহত শিক্ষার্থীরা হলো—ষষ্ঠ শ্রেণির ছাইমা, সানজিদা, মীম ও নকিব; সপ্তম শ্রেণির নুসরাত জাহান সেবা ও ফাহিম এবং নবম শ্রেণির নোভা। এদের মধ্যে ছাইমা, সানজিদা ও নোভা বজ্রপাতের তীব্রতায় সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছিল। ঘটনার পরপরই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও উপস্থিত লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন দুপুরে টিফিন বিরতি চলাকালে হঠাৎ করেই আকাশ কালো করে ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। ঠিক ওই মুহূর্তে বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির কক্ষের পার্শ্ববর্তী একটি সুবিশাল রেইনট্রি গাছে বিকট শব্দে বজ্রপাত আঘাত হানে। আকস্মিক এই বজ্রপাতে পুরো বিদ্যালয় ভবন কেঁপে ওঠে এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও হুলস্থুল পড়ে যায়। ভয়ে ওই তিন ছাত্রী ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং বাকি চার শিক্ষার্থী শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
ঘটনার পর সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, বজ্রপাতের তীব্রতায় রেইনট্রি গাছটির ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত লম্বালম্বিভাবে ফেটে গেছে এবং গাছের ছাল-বাকল খসে পড়ে রয়েছে। বিকট শব্দে বজ্রপাতের এই সংবাদটি মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত উৎসুক জনতা গাছটি একনজর দেখতে বিদ্যালয়ে ভিড় জমান।
নোভা নামের আহত এক নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলে, ঘটনার সময় সে বিদ্যালয় ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে নামছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে বজ্রপাতের তীব্র আলোর ঝলকানি ও কান ফাটানো বিকট শব্দে সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
এ বিষয়ে কোদালিয়া সহরুল্লাহ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাছমিন আক্তার সাত শিক্ষার্থী আহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরপরই আহত ও জ্ঞান হারানো শিক্ষার্থীদের আতঙ্ক কাটাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে সুস্থ অবস্থায় অভিভাবকদের জিম্মায় নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।