আগামী ৭ নভেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে গ্রাম পুলিশ সমাবেশ সফল করতে ১৩ অক্টোবর প্রস্তুতিমূলক সভা ডেকেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ

আগামী ৭ নভেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত সাবেক বাণিজ্য মেলার মাঠে দেশব্যাপী গ্রাম পুলিশ বাহিনীর এক মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই দিন সকাল ১১টায় অনুষ্ঠেয় এ জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তৃণমূল পর্যায়ে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত এই বাহিনীর সদস্যদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়ার প্রেক্ষাপটে আয়োজিত এই সমাবেশকে ঘিরে গ্রামীণ জনপদে এক ধরনের উৎসাহ উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

ঐতিহাসিক এই মহাসমাবেশ সফল ও ফলপ্রসূ করে তোলার লক্ষে আগামী মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) একটি বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সভার আয়োজন করা হয়েছে। ওই দিন বেলা ১১টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের এক সভার নোটিশে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকাশিত নোটিশে জানানো হয়েছে, আসন্ন প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ ছাড়াও উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করবেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান। সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের অংশগ্রহণ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতেই মূলত এই আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার আয়োজন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, গ্রামবাংলার জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ দমনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে গ্রাম পুলিশ। দফাদার ও মহল্লাদার পদে দায়িত্ব পালনকারী এই বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত গ্রামীণ এলাকায় পাহারা ও টহল দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি, বিভিন্ন অপরাধসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে থানা পুলিশকে সহায়তা করা এবং ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রমেও তারা সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করে থাকেন।

তবে দায়িত্বের পরিধি ও ঝুঁকির তুলনায় অপ্রতুল বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন গ্রাম পুলিশ সদস্যরা। তাদের বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্তি, সম্মানজনক বেতন গ্রেড পুনর্নির্ধারণ, রেশন সুবিধা, চিকিৎসা ও ঝুঁকি ভাতা এবং অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হচ্ছে। এ ছাড়াও বকেয়া বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধ, পেশাগত মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক চাকরিসংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর জোরালো দাবি রয়েছে তাদের। আগামী ৭ নভেম্বরের এই মহাসমাবেশ থেকে এসব দীর্ঘমেয়াদী দাবির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে।

০%
০%
০%
০%