নরসিংদী সদর উপজেলার চৌয়ালা এলাকায় গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটের দিকে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বাবু ওরফে শহীদুল্লাহ (২৬) নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। লোকমান হোসেন পৌর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছনে ঘটিত এই আকস্মিক সহিংসতায় উভয় পক্ষের আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত বাবু চৌয়ালা এলাকার আবদুল কাদেরের সন্তান। সংঘর্ষের তীব্রতার একপর্যায়ে বুকের বাম পাশে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি লুটিয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে তার প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
এই সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের হামলায় নিহতের ভাই রুবেল (৩০) ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন। এছাড়া চৌয়ালা পল্লী বিদ্যুৎ সংলগ্ন হবি কমিশনারের বাড়ির বাসিন্দা জাকিরের ছেলে মিরাজ (২০) ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হন। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিরাজের অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে নরসিংদী জেলা পুলিশ ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশেষ তৎপরতা শুরু করে। নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আশিকুর রহমান এই হতাহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই মূলত এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল। বর্তমানে নিহত যুবকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুরো চৌয়ালা এলাকা জুড়ে তীব্র থমথমে অবস্থা ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশি পাহারা ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এদিকে, এমন একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করে নিহত যুবকের পরিবার এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।