দেশের বাজারে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে সোনার বাজার। শুক্রবার দাম কমানোর পরদিন শনিবারই প্রতি ভরি ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে পুনর্নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়াকেই এই মূল্য সমন্বয়ের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ভরিপ্রতি ১ হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে দামের ওঠানামার সাথে সামঞ্জস্য রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে মূল্য সমন্বয়ের ঠিক এক দিন আগে অর্থাৎ শুক্রবার ভালো মানের সোনার দাম সমপরিমাণ কমানো হয়েছিল, যা বৃহস্পতিবারের বর্ধিত দামের সাথে ভারসাম্য বজায় রাখতে করা হয়েছিল। দাম বাড়লেও বাজারে রুপার দরে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার বিক্রয়মূল্য ৫ হাজার ৭৩ টাকা এবং ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৪ হাজার ৮৪০ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সোনার বাজারের অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষক সংস্থা গোল্ড প্রাইস ডট অর্গের তথ্যমতে, শুক্রবার বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ১৩ দশমিক ৪৩ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক মাসে বিশ্বজুড়ে আউন্সপ্রতি সোনার দাম বেড়েছে ৩৭৫ ডলার। ভূরাজনৈতিক সংকট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে এ বছরের শুরুতে সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও পরবর্তীতে তা বারবার বড় ধরনের উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।