সৌদি আরবের তেল পাইপলাইনে পূর্ণ ক্ষমতা ফিরে এসেছে

সৌদি আরব পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনেছে। মার্কিন-ইরান যুদ্ধের সময় হামলার কারণে এই পাইপলাইনের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল।
শক্তি মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, মেরামতের পর এই গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনটি প্রতিদিন প্রায় ৭০ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিবহনে সক্ষম হয়েছে। রবিবার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সৌদি আরামকো এবং দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থার দ্রুত পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ও সংকট ব্যবস্থাপনা দক্ষতার প্রতিফলন এই ঘটনায় ঘটেছে। এটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা ও ধারাবাহিকতা বৃদ্ধি করবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে সমর্থন করবে বলে মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।
দেশের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলের মানিফা তেলক্ষেত্রেও প্রায় ৩ লক্ষ ব্যারেল প্রতিদিন উৎপাদন ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। হামলার কারণে এই তেলক্ষেত্রেও ক্ষতি হয়েছিল।
তবে, অভ্যন্তরীণ খুরাইস তেলক্ষেত্রে প্রতিদিন ৩ লক্ষ ব্যারেল উৎপাদন ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের কাজ এখনো চলছে।
এর আগে রাষ্ট্রীয় সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছিল যে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের একটি পাম্পিং স্টেশনে হামলার কারণে দৈনিক উৎপাদন ৭ লক্ষ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছিল।
শক্তি মন্ত্রণালয়ের এক সূত্রমতে, মানিফা ও খুরাইস তেলক্ষেত্রে হামলার কারণে দৈনিক সম্মিলিত উৎপাদন ৬ লক্ষ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছিল।
এই হামলার জন্য কোনো পক্ষকে দায়ী করা হয়নি।
সৌদি আরবসহ কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতার ইরান থেকে হামলার শিকার হয়েছে। তেহরান জানিয়েছে যে তারা এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। কাতার শুক্রবার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে যেখানে ইরানি হামলায় বেসামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানতে দেখা গেছে।
পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি দেশের পূর্বাঞ্চলের আবকাইক তেলক্ষেত্রকে লোহিত সাগরের তীরে ইয়ানবু শহরের সঙ্গে সংযুক্ত করে। হরমুজ প্রণালীর কার্যকর বন্ধের মধ্যে এটি বৈশ্বিক তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীর এই অবরোধ বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনকে পঙ্গু করে দিয়েছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে।
মঙ্গলবার থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও, প্রণালীতে নৌ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে আছে।
এসএন্ডপি গ্লোবাল জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মাত্র ২২টি জাহাজ তাদের স্বয়ংক্রিয় সনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালু রেখে প্রণালী পার হয়েছে, যেখানে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩৫টি জাহাজ চলাচল করত।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
