AdvertisementAdvertisement

আমানতের মাইলফলক স্পর্শ করল পূবালী ব্যাংক ছাড়াল এক লাখ কোটি টাকা

দেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থার এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে বেসরকারি খাতের অন্যতম প্রধান আর্থিক প্রতিষ্ঠান পূবালী ব্যাংক। প্রথমবারের মতো ব্যাংকটির আমানতের পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকার গণ্ডি অতিক্রম করেছে। এর মধ্য দিয়ে বেসরকারি খাতের দ্বিতীয় এবং সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে দেশের পঞ্চম ব্যাংক হিসেবে এই অভিজাত ক্লাবে নাম লেখাল প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে সোনালী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক এবং জনতা ব্যাংকের পর পঞ্চম সদস্য হিসেবে পূবালী ব্যাংক এই তালিকায় যুক্ত হলো।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহ শেষে পূবালী ব্যাংকের মোট আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮০০ কোটি টাকায়। যেখানে গত বছরের শেষ নাগাদ ব্যাংকটির আমানত ছিল ৮৯ হাজার ৫১৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে আমানতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ২০২২ সালের শেষ দিকে ব্যাংকটির আমানত ছিল ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা থেকে মাত্র সাড়ে তিন বছরের ব্যবধানে আমানত দ্বিগুণ হওয়ার এই চিত্র ব্যাংকটির ব্যবসায়িক সক্ষমতার জানান দিচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ব্যাংকটির এই সাফল্যের পেছনে সুদীর্ঘ সংস্কার প্রক্রিয়া এবং গ্রাহক আস্থাকে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ১৯৫৯ সালে ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরুর পর স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে জাতীয়করণ এবং পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে পুনরায় বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে ব্যাংকটি নানা চড়াই-উতরাই পার করেছে। বিগত বছরগুলোতে প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, দক্ষ করপোরেট সুশাসন এবং খেলাপিমুক্ত ঋণ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করায় ব্যাংকটি তার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের উচ্চ হার যখন উদ্বেগের কারণ, সেখানে পূবালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার মাত্র ২ দশমিক ২০ শতাংশ। এই শক্তিশালী আর্থিক ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে ব্যাংকটি গত বছর ১ হাজার ৭৯ কোটি টাকার নিট মুনাফা অর্জন করেছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্য ও প্রবাসী আয় আহরণেও ব্যাংকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বর্তমানে দেশজুড়ে ৫১৯টি শাখা, ২৯০টি উপশাখা এবং ১ হাজারের বেশি এটিএম বুথের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক নিয়ে পূবালী ব্যাংক তার গ্রাহকসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ডিজিটাল রূপান্তরের পথেও পূবালী ব্যাংক ঈর্ষণীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। ব্যাংকটির নিজস্ব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘পাই’ বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ সক্রিয় গ্রাহক ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি ২৫ হাজার মার্চেন্ট পয়েন্ট এবং দেড় লাখ ‘বাংলা কিউআর’ কোড স্থাপনের মাধ্যমে ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ার পথেও অগ্রণী ভূমিকা রাখছে প্রতিষ্ঠানটি। ডিজিটাল অনবোর্ডিং সুবিধার ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে ব্যাংকিং সেবা সহজতর হওয়ায় আমানত সংগ্রহের গতি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।

ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জানান, দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন আস্থা অর্জনই এই মাইলফলকের মূল ভিত্তি। দক্ষ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে পূবালী ব্যাংক ভবিষ্যতে আরও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। গুণগত সম্পদ এবং নিরাপদ ঋণ পোর্টফোলিও বজায় রেখে ব্যাংকিং খাতের অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানে থাকার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

0%
0%
0%
0%