ফ্ল্যাটের ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ড্যাপ সংশোধনের তাগিদ রিহ্যাবের

রাজধানীর আবাসন খাতের সংকট নিরসন এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের স্বার্থে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ড্যাপ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন আবাসন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা রিহ্যাব। বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা রাজউকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় আবাসন খাতের প্রতিনিধিরা এই দাবি তোলেন। ক্রমবর্ধমান জমির সংকট এবং ফ্ল্যাটের আকাশচুম্বী মূল্য নিয়ন্ত্রণে উঁচু ভবন নির্মাণের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে ফ্লোর এরিয়া রেশিও বা ফার বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বিজ্ঞাপন

রিহ্যাব সভাপতি আলী আফজালের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুর রাজ্জাকসহ আবাসন খাতের শীর্ষস্থানীয় উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ফার বৃদ্ধি, সেটব্যাক সংক্রান্ত বিধান পুনর্বিবেচনা এবং উচ্চ ভবন নির্মাণের সুযোগ সম্প্রসারণের দাবি জানানো হয়। এছাড়া নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ, প্লটের অবস্থান অনুযায়ী নীতিমালার নমনীয়তা এবং সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের বাস্তবসম্মত রূপরেখা প্রণয়নের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আবাসন উদ্যোক্তাদের মতে, বর্তমান ড্যাপের কঠোর বিধিনিষেধ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, যা চূড়ান্ত পর্যায়ে সাধারণ মানুষের জন্য ফ্ল্যাটের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় রাজউক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম আবাসন খাতকে গতিশীল করতে বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনের জটিলতা কমিয়ে তা ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করছে রাজউক। এছাড়া আবাসন খাতে শেয়ারভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেলকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে নতুন একটি নীতিমালা প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য যে, ২০২২ সালের আগস্টে ড্যাপ কার্যকর হওয়ার পর থেকেই এর বিভিন্ন বিধান সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা। এর প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর এবং গত ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার ড্যাপের কিছু বিধানে সংশোধন আনলেও তা ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি। এখন নতুন করে ফার বাড়ানোর দাবি আবাসন বাজারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা পরিকল্পিত নগরায়ণ ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আবাসন নিশ্চিত করার লড়াইকে আরও বেগবান করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%