AdvertisementAdvertisement

সংশোধিত বাজেটে ২৭ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বৃদ্ধি, ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্য অর্থমন্ত্রীর

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ২৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৫৬ হাজার ১১৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঋণের সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি প্রদান এবং কৃষিঋণ মওকুফের মতো জরুরি খাতগুলোতে ব্যয়ের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বাড়তি অর্থের প্রয়োজন দেখা দেয়। সোমবার জাতীয় সংসদে সম্পূরক বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার গঠনের পর থেকেই অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা ও মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপচয় হ্রাস এবং মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয় করতে গিয়ে সরকারকে বাড়তি ব্যয়ভার বহন করতে হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এসব জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও ঘাটতি সমন্বয় করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, সংশোধিত হিসাবে সরকারি নিট ব্যয় মূল বাজেটের ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি ২ লাখ কোটি টাকা বা মোট দেশজ উৎপাদনের ৩ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সংশোধিত বাজেটে যেখানে ২৭টি প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, সেখানে ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ ৫৯ হাজার ৩৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা হ্রাস করা হয়েছে। সংসদীয় প্রক্রিয়ায় আজ নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) আইন, ২০২৬ উত্থাপন করা হয়। অতিরিক্ত বরাদ্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা অর্থ বিভাগের জন্য ২৩ হাজার ৬৫৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, পরিকল্পনা বিভাগের জন্য ১২ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জন্য ১ হাজার ৬৯০ কোটি ৮১ লাখ টাকা বাড়তি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যামূলক স্মারক অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ, সরকারি মূলধনী বিনিয়োগ ও কৃষিঋণ মওকুফ বাবদ বাড়তি অর্থের জোগান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত দুটি ও বহির্ভূত চারটি প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত সরকারি অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ও দাপ্তরিক ব্যয় সংকুচিত করার লক্ষ্য নিয়েই এবারের সম্পূরক বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

0%
0%
0%
0%