উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর তাগিদ সিপিডির

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা নির্ধারণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির প্রাক্কলন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সংকটকালীন সময়ে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবটি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি। রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এবং সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরের জন্য করকাঠামোর যে পথরেখা বা প্রক্ষেপণ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে করমুক্ত আয়ের সীমা পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফাহমিদা খাতুন করকাঠামোর এই দীর্ঘমেয়াদী পূর্বানুমানযোগ্যতাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করলেও বর্তমান বাজারদরের ঊর্ধ্বগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে করমুক্ত আয়ের সীমা মাত্র ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীত করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা কমাতে এই সীমা আরও যৌক্তিকভাবে বাড়ানো প্রয়োজন ছিল।
বাজেটে আবাসন খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালোটাকা বৈধ করার সুযোগ বহাল রাখায় তীব্র সমালোচনা করেছে সিপিডি। ফাহমিদা খাতুন ও মোস্তাফিজুর রহমান উভয়েই একমত পোষণ করেন যে, এই অনৈতিক সুবিধা সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করে এবং সমাজে বৈষম্য ও নৈতিক স্খলনের ঝুঁকি তৈরি করে। অর্থনীতি ও নৈতিকতার বিচারে এই সুযোগ কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে প্রস্তাবিত বাজেটের সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা ও প্রাক্কলনের ভিত্তি নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি দাবি করেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, বেসরকারি খাতে ঋণ, আমদানি-রপ্তানি ও সম্পদ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের জন্য যে ভিত্তি বছর ব্যবহার করা হয়েছে, তা অবাস্তব ও ত্রুটিপূর্ণ। প্রকৃত অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে আড়াল করে এই প্রাক্কলন করায় বাজেটের কাঠামোগত শৃঙ্খলা এবং বাস্তবায়নযোগ্যতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা ছিল অর্থনীতিতে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যাগুলো স্বীকার করে একটি বাস্তবসম্মত ভিত্তি বছর নির্ধারণ করা হবে। তবে সরকার সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা বর্তমান অবস্থায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে প্রাক্কলনগুলো পুনর্মূল্যায়নের ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।