AdvertisementAdvertisement

ব্যাংক খাত সংস্কারে কমিশন গঠনের ঘোষণা তথ্যমন্ত্রীর

দেশের ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘস্থায়ী সংকট নিরসন এবং শৃঙ্খলা ফেরাতে খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ সংস্কার কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। রাজধানী ঢাকার পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘ব্যাংক খাতে সুশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও দুর্নীতি দমনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতের মতো ব্যাংক খাতের আমূল সংস্কার প্রক্রিয়া কমিশনের আওতাভুক্ত করা হবে এবং এ বিষয়ে সরকার অত্যন্ত বদ্ধপরিকর।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে অভিযোগ করেন যে, অতীতের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যানকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তথ্য বিকৃতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে জনসমক্ষে আড়াল করা হয়েছিল, যা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া সম্ভব ছিল না বলে তিনি মন্তব্য করেন। রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সামগ্রিক সুশাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শুধু গণমাধ্যমের সক্রিয় উপস্থিতি দিয়ে ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা বজায় রাখতে ব্যাংক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার তাগিদ দেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা অতীতে ব্যাংকের আমানত আত্মসাৎ করেছেন, তারাই শেয়ারবাজারের সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পুঁজি লুন্ঠন করেছেন। তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার অর্থনৈতিক উন্মুক্তকরণের ধারাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বেসরকারি খাতের পরিধি বিস্তারে আধুনিক ও স্বচ্ছ কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

সেমিনারে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামদুদুর রশীদ স্বীকার করেন যে, দীর্ঘদিনের সুশাসনের ঘাটতির কারণে ব্যাংকিং খাত গভীর সংকটের মুখে পড়েছে এবং তার ব্যাংকটিও বর্তমানে আর্থিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নির্দেশনার ফলে দীর্ঘদিন ধরে আড়ালে থাকা প্রকৃত খেলাপি ঋণের তথ্য এখন দৃশ্যমান হয়েছে। এটি সাম্প্রতিক কোনো অবনতি নয়, বরং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অব্যবস্থাপনারই বাস্তব প্রতিফলন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দেশের অর্থায়নের মূল উৎস হিসেবে ব্যাংক খাত এখনো এককভাবে আধিপত্য বিস্তার করে আছে, কারণ পুঁজিবাজার ও বন্ডবাজার কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই ব্যাংক খাতের সুশাসন ও সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। প্রবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয় যে, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে গণমাধ্যম ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে কাজ করলেও, অনেক ক্ষেত্রে সরকারি রোষানল ও কণ্ঠরোধের চেষ্টার ফলে তাদের ভূমিকা ব্যাহত হয়েছে।

উক্ত সেমিনারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-উপাচার্য সায়েমা হক বিদিশা এবং ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক মো. মশিউর রহমানসহ বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশের আর্থিক খাতের সংস্কারে ঐক্যবদ্ধ ও নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

0%
0%
0%
0%