ফুলতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভেঙে পড়েছে চিকিৎসা ব্যবস্থা জনবল ও সরঞ্জাম সংকট তীব্র

খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বর্তমানে তীব্র জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে ধুঁকছে। ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত এবং পরবর্তীতে ১০০ শয্যার প্রশাসনিক গেজেট প্রকাশের পরও সেবার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছেনি। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যশোর জেলার অভয়নগর ও খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার একাংশের মানুষ এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল হলেও, আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা।
হাসপাতালটিতে মোট ২২ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৭ জন। এদের মধ্যে কয়েকজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট সপ্তাহে মাত্র দুই দিন দায়িত্ব পালন করেন এবং বাকি সময় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ব্যয় করেন। এছাড়া ১৬২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিপরীতে বর্তমানে ১২৩ জন এবং আউটসোর্সিংয়ের ১৯ জন কর্মী দিয়ে খুঁড়িয়ে চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম। নিয়মিত জনবলের অভাবে অপারেশন থিয়েটার থাকা সত্ত্বেও সেখানে অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে এবং রেডিওগ্রাফারের অভাবে এক্স-রে কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
জরুরি ও জটিল রোগী নিয়ে হাসপাতালে আসা ভুক্তভোগীদের প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। হার্ট স্ট্রোক বা অ্যাপেন্ডিসাইটিসের মতো জটিল রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে প্রায়ই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা বেসরকারি ক্লিনিকে রেফার্ড করা হয়। এছাড়া সরকারি বরাদ্দের ওষুধ পর্যাপ্ত না থাকায় রোগীদের নাপা ও গ্যাসের ট্যাবলেটের মতো সাধারণ ওষুধের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। শিশু রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্ট করানোর অভিযোগ থাকলেও, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এ দায়ভার হাসপাতালের অপর্যাপ্ত ল্যাবরেটরি সুবিধাকে দিয়েছেন।
হাসপাতালের জেনারেটর দীর্ঘ সময় অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় রোগীদের মোমবাতির আলোয় থাকতে হয়। খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদার সেলিম সরদার নিয়মানুযায়ী মানসম্মত খাবার সরবরাহের দাবি করলেও রোগীদের মধ্যে এ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থার এই নাজুক পরিস্থিতিতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির সেবার মান উন্নয়নসহ জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।