AdvertisementAdvertisement

ইরানের সঙ্গে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তহবিল নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের সমঝোতা ও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে সুইজারল্যান্ডে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও বাজার অস্থিরতার জন্ম দেওয়া এই যুদ্ধের ইতি টানতে এই চুক্তি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ তহবিল দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে পারে।

সোমবার মার্কিন উপ-রাষ্ট্রপতি জে ডি ভ্যান্স সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, এই আর্থিক সুবিধাগুলো ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর নজরদারি ও শর্ত পূরণের ওপর নির্ভরশীল। রবিবার উভয় পক্ষ ডিজিটালভাবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এটি কোনো সরাসরি সরকারি অর্থপ্রদান নয় বরং বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া মাত্র। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ছড়িয়ে পড়া তথাকথিত গুজবকে ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নিউক ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশাল তহবিল সরকারের কোষাগার থেকে নয়, বরং ইরানের বাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আসবে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের গবেষক মুহানাদ সেলুমের মতে, ওয়াশিংটনের জন্য এটি একটি সুবিধাজনক কৌশল। ইরান যদি সংস্কার মেনে চলে, তবে শান্তি প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব যুক্তরাষ্ট্রের অর্জনে আসবে, আর ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি কোনো আর্থিক ঝুঁকি থাকবে না।

ইরানের অর্থনীতি ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে দীর্ঘমেয়াদী মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে পঙ্গু হয়ে পড়েছে। দেশটির পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জেরে তেল রপ্তানির রাজস্বসহ বিশাল অংকের সম্পদ বিদেশের ব্যাংকে হিমায়িত রয়েছে। নতুন এই চুক্তির অধীনে ইরান তার পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন থেকে বিরত থাকা, নিয়মিত পরিদর্শন মেনে চলা এবং মজুত থাকা ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানা গেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

চুক্তির অংশ হিসেবে বর্তমানে চলমান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে হরমোজ প্রণালীর মুক্ত চলাচল নিশ্চিত করা ও ইসরায়েলের লেবানন অভিযানের মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়ে চূড়ান্ত সমাধান এখনো অস্পষ্ট। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, আলোচনার পরবর্তী ৬০ দিন নিষেধাজ্ঞার মুক্তি ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এই চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার বাস্তবে পরীক্ষা করে দেখা যায়। অন্যদিকে জি-সেভেন সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে অত্যন্ত ‘ন্যায্য’ এবং ‘ভালো’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে চুক্তির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে সংশয় ও কৌতূহল দুই-ই রয়ে গেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%