ওমরাহ ব্যবস্থাপনায় কড়াকড়ি আরোপ করল পাকিস্তান সরকার

পবিত্র ওমরাহ পালনেচ্ছুকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং এই খাতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পাকিস্তান সরকার নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। হজ ও ওমরাহ আইন ২০২৪-এর অধীনে কার্যকর হতে যাওয়া এই বিধিমালা অনুযায়ী এখন থেকে ওমরাহ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর সরকারি নজরদারির আওতায় থাকতে হবে। মূলত ওমরাহ ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান অনিয়ম দূর করে তীর্থযাত্রীদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
পাকিস্তানের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন ওমরাহ নীতিমালা বাস্তবায়িত হবে। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের ওমরাহ নীতি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ফেডারেল মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। এখন থেকে শুধুমাত্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত ওমরাহ এজেন্সিগুলোই তীর্থযাত্রীদের সেবা প্রদানের আইনি অধিকার ভোগ করবে। একই সঙ্গে নিবন্ধিত অপারেটরদের দ্রুত ‘নাসুক’ চুক্তির যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অনুমোদিত ওমরাহ অপারেটরদের একটি তালিকা তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। তীর্থযাত্রীদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, নিবন্ধিত নয় এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওমরাহ প্যাকেজ বুকিং করলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকেই সম্পূর্ণ ঝুঁকি বহন করতে হবে। মূলত অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে মন্ত্রণালয় তা গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেবে এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
নতুন নিয়মে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ওমরাহ প্যাকেজের লেনদেন বাধ্যতামূলকভাবে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। তীর্থযাত্রীদের তাদের সব নথিপত্র ও অর্থ পরিশোধের রসিদ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামো বাস্তবায়িত হলে ওমরাহ ব্যবস্থাপনায় জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হবে এবং পাকিস্তানি তীর্থযাত্রীরা আরও উন্নত ও নিরাপদ সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ
