ছেলের বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় অপমানে বরের বাবার আত্মহত্যা

পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পানিশানা পূর্বপাড়া গ্রামে ছেলের বিয়ে বাড়িতে আনন্দের পরিবর্তে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিয়ের আসরে এক তরুণীর বিয়ের দাবির মুখে অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বরের বাবা সুরুজ মিয়া (৪৫) আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার রাতে নিজ বাড়ির পাশের একটি আমগাছ থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সুরুজ মিয়া ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে। স্থানীয় ও স্বজনদের ভাষ্যমতে, বুধবার সুরুজ মিয়ার বড় ছেলে হেলাল মিয়ার (২২) বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক ছিল। দুপুরে বরযাত্রী নিয়ে স্বজনেরা কনের বাড়িতে পৌঁছানোর পর বিকেলের দিকে জান্নাতী খাতুন নামে এক নারী ও তাঁর আত্মীয় শাহিনুর বেগম সেখানে উপস্থিত হন। জান্নাতী খাতুন দাবি করেন, হেলাল মিয়ার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং পূর্ব নির্ধারিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হেলালকে বিয়ে করতেই তিনি সেখানে এসেছেন।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং শেষ পর্যন্ত বিয়েটি ভেঙে যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বরযাত্রীরা নিরাশ হয়ে বাড়িতে ফিরে এলে সুরুজ মিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের আয়োজনে এমন বিশৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্মানহানির বিষয়টি তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি।
রাত ১১টার দিকে বাড়ির পাশের একটি আমগাছে সুরুজ মিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জান্নাতী খাতুন ও শাহিনুর বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা দোষীদের চিহ্নিত করে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
