বেনজীর আহমেদকে ফেরাতে দুবাই পুলিশের চার প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে দুদক

দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। তাঁকে বাংলাদেশে হস্তান্তরের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি জানিয়েছে দুবাই পুলিশ। তবে এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আইনি ও কারিগরি দিকগুলো খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ইন্টারপোলের মাধ্যমে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে দুবাই কর্তৃপক্ষ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ দিন আগে দুবাই পুলিশের পাঠানো সেই চিঠিটি বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। বর্তমানে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখার সহায়তায় দুদক ওই চিঠির জবাব তৈরির কাজ করছে। মঙ্গলবার ২১ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ সরকার ও দুদক তাঁকে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে। তদন্ত কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় নথিপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুবাইয়ে প্রেরণ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দুবাই পুলিশ বাড়তি কিছু বিষয়ে স্পষ্টীকরণ ও ক্লিয়ারেন্স চেয়ে এই চিঠিটি পাঠিয়েছে। এর আগে গত ১৬ জুন বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ইংরেজি ও আরবি ভাষায় প্রস্তুতকৃত দুটি পৃথক প্রত্যর্পণ প্রস্তাবনা দুদকের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছিল।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিস্থ ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো গত ১২ জুন বাংলাদেশের এনসিবিকে একটি চিঠি দিয়ে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, তাদের দেশের ফেডারেল আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন দাখিল করতে হবে। এই আবেদনে অভিযুক্তের পরিচয়, ছবি, জাতীয়তা, অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ, মামলার রায় ও তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপিসহ আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র আরবি ভাষায় অনুবাদ করে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
উল্লেখ্য যে, দুর্নীতির দুটি মামলার তদন্তের ভিত্তিতে এবং আদালতের নির্দেশে গত ১০ এপ্রিল ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্দেশে এই প্রভাবশালী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান এবং তাঁকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বয়ে এখন দ্রুততার সঙ্গে জবাব তৈরির কাজ চলছে, যাতে আইনি জটিলতা কাটিয়ে তাঁকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
