AdvertisementAdvertisement

কেরাণীগঞ্জের গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিহত বেড়ে ৬, আহত ২

রাজধানীর কেরাণীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় (আমবাগিচা আবাসিক এলাকা) অবস্থিত একটি গ্যাস লাইটার তৈরির কারখানায় শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এ নিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ জনে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে আরও ২ জনকে

ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের আরেক কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানিয়েছিলেন, আগুনে ৫ জনের মরদেহ ও ১ জন আহত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

শনিবার দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে কদমতলীর আকরাম মিয়ার মালিকানাধীন টিনশেডের ওই কারখানায় আগুন লাগে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও নির্বাপণ কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পর্যায়ক্রমে ৭টি ইউনিট যোগ দেয়। সাড়ে তিন ঘণ্টার অক্লান্ত চেষ্টার পর বিকেল ৪টা ৪৪ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

নিহতদের মরদেহগুলো এতটাই পুড়ে গেছে যে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের লিঙ্গ বা পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, তাদের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ঘটনাস্থলে স্বজনদের আহাজারি ছিল হৃদয়বিদারক। এক নিহতের ছেলে সাব্বির জানিয়েছেন, তার মা মঞ্জু বেগম ওই দিনই প্রথমবার কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছিলেন। আগুন লাগার পর অনেকেই নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে ছুটে আসেন।

আগুনের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট অথবা গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন।

এ ধরনের ছোট কারখানায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত- অগ্নিকাণ্ড
0%
0%
0%
0%