‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ
জুলাই যোদ্ধার পরিচয়েও রেহাই নয়: অভিযোগের সত্যতা মিললে ব্যবস্থা চান এনসিপি নেতা

প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন তারা সম্প্রতি ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ তুলে বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় ব্যবহার করে অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজি করছেন শরীয়তপুর জেলার বাসিন্দা আব্দুর রহমান (পিতা: আবুল কাশেম বেপারী)। তিনি জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সদস্য পরিচয় দেন এবং এনসিপিতেও তার পদ রয়েছে বলে দাবি করে বিভিন্ন মহলে প্রভাব বিস্তার করেন।

অভিযোগে সাংবাদিক ইলিয়াস জানান, রামপুরা আমলী থানায় ব্যবসায়ীদের নামে (মামলা নং–৪৯৯/২০২৫) অদ্ভুত ও অসঙ্গতিপূর্ণ একটি মামলা করেন আব্দুর রহমান। পরে সেই মামলা কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেন তিনি। এসব চাঁদা দাবির একাধিক কল রেকর্ড ইতোমধ্যেই তার হাতে এসেছে বলেও দাবি করেন ইলিয়াস হোসেন তারা।
তিনি আরও বলেন, চক্রটির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয় কিছু সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ৩০–৪০ জন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তার ভাষায়, “জুলাইয়ের আ’হ’ত সেনা আব্দুর রহমান এখন চাঁদাবাজির সৈনিকে পরিণত হয়েছে। জুলাই বেঁচে খাওয়ার বস্তু নয়—এটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ত্যাগ।” তিনি এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে চাঁদাবাজি বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এনসিপি নেতাদের প্রতিক্রিয়া
সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক ও শরীয়তপুর–১ আসনে এনসিপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ইমরান আল নাজিরসহ এনসিপির আরও কয়েকজন স্থানীয় নেতা।
ইমরান আল নাজির তার বিবৃতিতে বলেন,
“যাকে নিয়ে সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন লিখেছেন, তিনি এনসিপির কোনো পদে নেই। এনসিপি শরীয়তপুর জেলা বা কেন্দ্রীয় কমিটিতেও তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
তিনি আরও জানান, আব্দুর রহমান আহত জুলাই যোদ্ধা—এ তথ্য সঠিক। তবে তার যেকোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায় ব্যক্তিগত এবং এসবের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই।
ইমরান আল নাজির বলেন, “যদি অভিযোগের সত্যতা বা প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
এনসিপির আরও কয়েকজন নেতা সাংবাদিক ইলিয়াসের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ঘটনাটি এখন এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে।
তবে ওই অভিযোগ ফেসবুকে পোস্ট করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ডিলিট করে দেন সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন। পোস্টটি কেন অপসারণ করা হয়েছে—তা এখনো জানা যায়নি, তবে বিষয়টি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
