AdvertisementAdvertisement

দিল্লির বঙ্গভবনে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন

দিল্লির বঙ্গভবনে মঙ্গলবার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং নবগঠিত রাজনৈতিক দল এনসিপিআই-এর সাংসদরা। গত জুন মাসে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দল ভাঙনের মুখে পড়ার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একটি প্রাথমিক আলোচনা হয়েছিল। তবে এনসিপিআই আনুষ্ঠানিকভাবে এনডিএ জোটভুক্ত হওয়ার পর এই প্রথম দলবদ্ধভাবে মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি হলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, দেব, ইউসুফ পাঠানসহ ১৯ জন এনসিপিআই সাংসদ।

প্রায় এক ঘণ্টার এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব ও বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। এছাড়া তৃণমূল ত্যাগ করা রাজ্যসভার তিন বিজেপি সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকসহ মোট ২২ জন সাংসদ বৈঠকে অংশ নেন। দিল্লির যানজটের কারণে মুখ্যমন্ত্রী নির্ধারিত সময়ের কিছুটা দেরিতে পৌঁছালেও, এই বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে দলীয় রাজনীতি বা এনডিএ-র সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে সাংসদদের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে মূলত উন্নয়নমূলক ও প্রশাসনিক আলোচনার মঞ্চ হিসেবেই তুলে ধরা হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বৈঠক শেষে সাংসদ শতাব্দী রায় জানান, আগামী দিনে নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আরও আনুষ্ঠানিক আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে, সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকের ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জানান, নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার সমস্যা নিরসনে মুখ্যমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষায় পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো নাগরিকই অকারণে এলাকাছাড়া না হন। একই সুর শোনা গেছে সাংসদ বাপী হালদারের কণ্ঠেও; তিনি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যেন সব যোগ্য নাগরিকের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে এনসিপিআই সাংসদ আবু তাহের, খলিলুর রহমান ও ইউসুফ পাঠানের উপস্থিতি। এর আগে এনডিএ-র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলেও, এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় তারা সরব ছিলেন। এনডিএ বা বিজেপির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে আবু তাহের স্পষ্ট করেন যে, তারা স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রেখেই কাজ করছেন। এদিকে, সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সংখ্যাটা বাড়তেও পারে’ মন্তব্যে নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সব মিলিয়ে, দিল্লির এই বৈঠকটি রাজ্যের প্রশাসনিক সমন্বয় এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%