বিয়ের আগেই শেষ হলো শুভর জীবন—শরীয়তপুরে মোটরসাইকেল-ট্রাক সংঘর্ষে এনজিও কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু
শুক্রবার বিয়ের দিন ঠিক করার কথা ছিল, তার আগেই চিরবিদায় নিলেন শুভ মণ্ডল

এক তরুণের জীবন থেমে গেল ঠিক স্বপ্নপূরণের আগ মুহূর্তে। আগামী শুক্রবার বিয়ের দিন ঠিক করার কথা ছিল পরিবারের সাথে—কিন্তু তার আগেই প্রাণ হারালেন সেই শুভ মণ্ডল (৩০)। শরীয়তপুরে মোটরসাইকেল ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই এনজিও কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জেলা সড়ক বিভাগের সামনে ঘটে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা।
নিহত শুভ মণ্ডল পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার মধ্য বানীয়ারি গ্রামের অজয় মণ্ডলের ছেলে। তিনি শরীয়তপুরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘গ্রাম উন্নয়ন কর্ম’ (গাক)-এ কর্মরত ছিলেন।
গ্রাম উন্নয়ন কর্ম ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুভ ছয় মাস আগে শরীয়তপুর শাখায় যোগ দেন। সদ্য বিয়ের জন্য কনে দেখা সম্পন্ন হয়েছিল। শুক্রবার তিনি নিজ গ্রামে ফিরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের দিন-তারিখ নির্ধারণের কথা ছিল।
দুর্ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিয়মিত মাঠ পর্যায়ের কাজ শেষে অফিসে ফেরার পথে জেলা সড়ক বিভাগের সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে শুভ ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
খবর পেয়ে পালং মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
গ্রাম উন্নয়ন কর্মের সিনিয়র ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,
“শুভ ছিল ভদ্র, বিনয়ী আর দায়িত্বশীল কর্মী। ছয় মাস আগে আমাদের দলে যোগ দিয়েছিল সে। আগামী সপ্তাহে তার বিয়ের দিন ঠিক হওয়ার কথা ছিল। আমরা কেউ ভাবতেও পারিনি এভাবে চলে যাবে। এই ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”
তিনি আরও বলেন,
“আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই—এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।”
বিষয়টি নিশ্চিত করে পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন,
“খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় শুভ নামের যুবক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আমরা এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, শরীয়তপুর শহর এলাকায় ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুতগতির ট্রাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার আগেই চিরবিদায় নেওয়া শুভর মৃত্যুতে সহকর্মী, বন্ধু ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।