Advertisement

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ চারজন খুনে আটক দুই যুবক

রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুই যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রোববার ভোরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃতরা নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা কানুদাস ও বিনয়চন্দ্র দাসের সন্তান।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেছে যে, গত ২০ আগস্ট গভীর রাতে গণপতি চক্রবর্তীর নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে বসে তারা মাদক সেবন ও আড্ডা দিচ্ছিল। এ সময় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী তাদের দেখে ফেলায় প্রথমে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তারা। এরপর শব্দ শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এগিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয়। একইভাবে তাদের মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকেও নির্মমভাবে খুন করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর তারা বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে পালিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

শনিবার দিবাগত রাতে পুলিশ ওই বাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। এর মধ্যে গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায় বাড়ির ছাদে, তার স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ ছিল ছাদে ওঠার সিঁড়িতে এবং ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয় খাটের নিচ থেকে। গত বৃহস্পতিবারের পর থেকে পরিবারটিকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। শনিবার রাতে বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয় এবং পরে তালা ভেঙে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

নিহত গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। অবসরের পর তিনি নগরীর সমবায় মার্কেটে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সেবা দিতেন। তার মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ছেলে প্রিয়ম একই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়রা ঘাতকদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%