রাতের অন্ধকারে গলাকেটে হত্যা পরিবহন ব্যবসায়ী সাইফুলকে

রাত গভীর হলে প্রতিদিনের মতোই কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন সাইফুল ইসলাম (৪০)। কিন্তু সেই ফেরা আর শেষ হলো না। বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সোন্দাবাড়ি পূর্বপাড়া এলাকায় রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজ বাড়ির পাশে একটি ঘাসের জমি থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গলাকাটা অবস্থায় লাশ দেখে এলাকায় নেমে আসে শোক ও আতঙ্কের ছায়া।
নিহত সাইফুল ইসলাম গাবতলী পৌরসভার সোন্দাবাড়ি পূর্বপাড়ার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত একজন সফল পরিবহন ব্যবসায়ী। নিজের সাতটি ট্রাক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। ট্রাকের আয় দিয়েই সংসার চালাতেন, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ছোট সংসারটিই ছিল তাঁর জীবনের কেন্দ্রবিন্দু।
গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, রাত দেড়টা থেকে ভোর পাঁচটার মধ্যে যেকোনো সময় দুর্বৃত্তরা সাইফুলকে বাড়ির অদূরের একটি খেতে নিয়ে গলাকেটে হত্যা করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতেও প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন সাইফুল। সাধারণত রাত একটা থেকে দেড়টার মধ্যে বাড়িতে পৌঁছাতেন। কিন্তু সেদিন আর ফিরে আসেননি। ভোরের দিকে নিজ বাড়ির পাশে মাত্র কয়েক মিটার দূরের একটি ঘাসের খেতে তাঁর রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।
নিহতের স্ত্রী নিলুফা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার স্বামী ট্রাকের ব্যবসা করে সংসার চালাতেন। কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না। প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। এশার নামাজের পর তাঁর সঙ্গে শেষ কথা হয়। সকালে বাড়ির কাছেই তাঁর গলাকাটা লাশ উদ্ধার হলো। কী কারণে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটল, তা আমি বুঝতে পারছি না। বিচার চাই।’
স্থানীয়রা জানান, সাইফুল শান্ত, সরল ও দায়িত্বশীল মানুষ ছিলেন। এলাকার কেউ তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ রাখেনি। হঠাৎ এই হত্যাকাণ্ডে পুরো সমাজ স্তম্ভিত।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মোহাম্মদ আবু রায়হান বলেন, ‘হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ট্রাক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের সম্ভাবনা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি পরিকল্পিত কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার দিশেহারা। সাইফুলের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের অন্ধকার। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, হত্যার রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন করে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
