Advertisement

গফরগাঁওয়ে তিন মাসে ছয়বার লাইনচ্যুতি ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে যাত্রী আতঙ্ক ও দুর্ভোগ

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা দিয়ে চলাচলকারী ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে একের পর এক ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। গত তিন মাসে এ রুটে অন্তত ছয়বার ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে, যা যাত্রীসাধারণের নিয়মিত যাতায়াতকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। কেবল ট্রেন নয়, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেন উদ্ধারে আসা রিলিফ ট্রেনের লাইনচ্যুতির ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

সর্বশেষ গত শনিবার সকালে গফরগাঁওয়ে দেওয়ানগঞ্জগামী একটি কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়লে প্রায় দুই ঘণ্টা ১৫ মিনিট রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়। এর আগে গত ৭ আগস্ট গফরগাঁও রেলস্টেশনের অদূরে ঢাকাগামী জামালপুর কমিউটার ট্রেনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হলে প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। রেলপথে এ ধরনের দুর্ঘটনা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।

বিজ্ঞাপন

বারবার এ ধরনের দুর্ঘটনার পেছনে ব্রিটিশ আমলের জরাজীর্ণ রেললাইন এবং পাথরের স্বল্পতাকে দায়ী করেছেন গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার হানিফ আলী। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের পুরোনো লাইন ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে বর্তমানে শ্রীপুর থেকে সুতিয়াখালী পর্যন্ত পুরাতন লাইন অপসারণ করে নতুন স্লিপার ও ব্যালাস্ট স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, সংস্কারকাজ সম্পন্ন হলে এই রুটে ট্রেনের গতি বৃদ্ধির পাশাপাশি ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে আসবে।

এ রুটের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার করুণ দশা নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তব্য দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু। তিনি গফরগাঁও ও মশাখালী রেলস্টেশন সংস্কার, যাত্রী বিশ্রামাগার নির্মাণ এবং নতুন লোকোমোটিভ ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন। সংসদ সদস্যের বিশেষ উদ্যোগে ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার থেকে এই রেলপথে সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%