Advertisement

সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা শিল্পে মর্মান্তিক প্রাণহানি নিহত ১০ পরিবার পেল ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে এলএনজিবাহী জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নিহত ১০ শ্রমিকের পরিবারকে মোট ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে। রোববার বিকেলে কারখানাটির হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিটি পরিবারকে অবশিষ্ট ৭ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়। এর আগে প্রতিটি পরিবারকে ৩ লাখ টাকা করে প্রদান করা হয়েছিল, যার ফলে পরিবারপ্রতি মোট ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হলো।

গত ১৪ আগস্ট ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ৯ জন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। জাহাজটির ট্যাংকে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। যে জাহাজটি ‘ক্লিন সার্টিফিকেট’ পাওয়ার পর ক্রয় করা হয়েছিল, তাতে কীভাবে প্রাণঘাতী বিষাক্ত গ্যাস জমা হলো, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সীতাকুণ্ডের এই শিল্পখাত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের মতো বিষাক্ত গ্যাস অপসারণ করার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা ‘শূন্যের কোঠায়’ নামিয়ে আনতে শিপইয়ার্ড মালিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন তিনি।

ফেরদৌস স্টিলের স্বত্বাধিকারী ওয়াহেদ মুরাদ জানান, দুবাইয়ের একটি কোম্পানি থেকে যথাযথ ‘ক্লিন সার্টিফিকেট’ যাচাই করেই তিনি জাহাজটি ক্রয় করেছিলেন। এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বিদেশি কোম্পানির বিরুদ্ধে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান। বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মহসিন দাবি করেন, জাহাজটি পুরোপুরি পরিষ্কার না করেই ভুল সনদ দিয়ে বিক্রি করার কারণেই এই ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ ছিল। গত ১২ আগস্ট ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র দুই দিন পরই এই দুর্ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিবেশ অধিদপ্তর ইয়ার্ডটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। জাহাজের ট্যাংকে গ্যাস পরীক্ষার প্রক্রিয়া এবং শ্রমিকদের প্রবেশের নিরাপত্তা নিয়ে যে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে, তার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা নিহতদের স্বজনদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%