AdvertisementAdvertisement

ব্রহ্মপুত্রের গ্রাসে চিলমারীর আশ্রয়ণ প্রকল্প বিলীন গৃহহীন অর্ধশতাধিক পরিবার

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চর বিশালপাড়া গ্রামে ব্রহ্মপুত্রের করাল গ্রাসে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শত শত পরিবার। উত্তাল নদীর ভাঙনে গ্রামটির অস্তিত্ব বিলীনের পথে। এখন পর্যন্ত সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রায় ৫০টি ঘর নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে এবং অস্তিত্ব রক্ষার্থে আরও ২০টি ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন ভুক্তভোগীরা। প্রকৃতির এই নির্মম খেলায় ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন কয়েকশ মানুষ, যাদের অনেকেই এখন আশ্রয় নিয়েছেন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে কিংবা অন্যের বাড়িতে।

বাকপ্রতিবন্ধী শান্তনা খাতুন ইশারায় জানান, ২০২২ সালে তার পরিবার সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের যে ঘরটি পেয়েছিল, তা এখন ব্রহ্মপুত্রের অতল গর্ভে হারিয়ে গেছে। একই দশা জাহিনুর বেগমের, যিনি ধারদেনা করে গড়ে তোলা নিজের বসতভিটা হারিয়ে এখন অন্যের জমিতে আশ্রিত। ভাঙনের এই মিছিলে নতুন করে যুক্ত হয়েছে রোজিনা আক্তারের নাম, যিনি সংসার ভাঙার যন্ত্রণার পাশাপাশি বর্তমানে নদী ভাঙনে সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিনাতিপাত করছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

চরটির বর্তমান চিত্র যেন এক জনপদ হারানোর নীরব আর্তনাদ। কড়াই বরিশাল চরে একসময় যে ঘরগুলো ছিল, সেখানে এখন কেবল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ইট-সুরকি পড়ে আছে। রাশেদা, নুর নাহার ও ফতেমা বানুর মতো ভুক্তভোগীরা জানান, সহায়-সম্বল বিক্রি করে তিল তিল করে গড়ে তোলা বসতভিটা চোখের পলকে নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় তারা এখন দিশেহারা। কাজের সন্ধানে গ্রামটির বেশিরভাগ পুরুষ মানুষ পাড়ি জমিয়েছেন ঢাকা শহরে, ফলে এলাকাটি এখন অনেকটা জনশূন্য হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমানের ভাষ্যমতে, এ পর্যন্ত প্রায় ৭৫টি ছোট-বড় ঘর নদী গ্রাস করে নিয়েছে এবং ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও প্রায় ২০০ পরিবার। স্থায়ী কোনো বাঁধ না থাকায় ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে চরের বাসিন্দাদের। ভুক্তভোগী আঁখি বেগম বলেন, মাথা গোঁজার শেষ ঠাঁইটুকুও নদী কেড়ে নেওয়ায় এখন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে কোথায় যাবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না তিনি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, চরে স্থায়ী নদী রক্ষা প্রকল্পের জন্য বর্তমানে কোনো বরাদ্দ নেই। তবে জরুরি ভিত্তিতে দেড় হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং ভাঙন রোধে ৩৮টি পয়েন্টে ডাম্পিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে। নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারানো এসব মানুষ এখন দ্রুত স্থায়ী সমাধান ও পুনর্বাসনের দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

0%
0%
0%
0%