দেবীগঞ্জে দুই কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার তিস্তা নদী থেকে জালিয়াপাড়া বাঁধ পর্যন্ত ২ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও প্রাক্কলন না মানার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২ কোটি ৬ লাখ ৬০ হাজার ৮৬৯ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স শেখ ট্রেডার্স নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণের প্রতিটি পর্যায়ে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্প এলাকায় ডাব্লিউবিএম স্তরের কাজের জন্য পিকেট ইটের খোয়া ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ২ নম্বর ইট। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই ইটগুলো ফ্যাকাশে রঙের এবং অত্যন্ত ভঙ্গুর। যথাযথ মানের পিকেট ইট না হওয়ায় এবং সড়কের সাব-বেস স্তরে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বালু মিশ্রিত করায় এর স্থায়িত্ব নিয়ে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এছাড়া প্রাক্কলনে নির্ধারিত আকারের পরিবর্তে ৬ থেকে ৭ ইঞ্চি আকারের বড় খোয়া ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, নির্ধারিত আকারের চেয়ে বড় খোয়া ব্যবহারে পাথর বা ইটের মধ্যে প্রয়োজনীয় ইন্টারলকিং বা বন্ধন তৈরি হয় না। ফলে রাস্তার কমপ্যাকশন দুর্বল থেকে যায় এবং পরবর্তীতে ভারী যানবাহনের চাপে সড়ক দেবে যাওয়া কিংবা কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টির আশঙ্কা প্রবল।
সাব-বেস নির্মাণের সময়ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা জানান, অনেক স্থানে খোয়ার চেয়ে বালুর পরিমাণ অস্বাভাবিক বেশি। প্রকৌশলবিদ্যার নিয়মানুযায়ী অতিরিক্ত বালুর ব্যবহার রাস্তার লোড বহনক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং বৃষ্টির পানি প্রবেশ করলে সড়কটি নরম হয়ে ‘স্পঞ্জিং’ সৃষ্টি করে। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কজুড়ে ফাটল দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সাইদরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান। তবে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী শাহরিয়ার ইসলাম শাকিল দাবি করেছেন, বিষয়টি গুরুত্বসহ দেখা হচ্ছে এবং ইটের মান যাচাইয়ের জন্য নমুনা ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ল্যাব রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ত্রুটিপূর্ণ অংশগুলো সংশোধন করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
উন্নয়ন কাজে ব্যবহৃত উপকরণের নিম্নমান এবং সরকারি বরাদ্দের অপচয়ের কারণে জনমনে চরম হতাশা বিরাজ করছে। টেকসই ও মানসম্মত সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।