মাগুরার শ্রীপুরে টিসিবির পণ্যের মান নিয়ে অসন্তোষ ও দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ভর্তুকি মূল্যের পণ্যের নিম্নমান ও প্যাকেজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এটি বড় ধরনের সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত প্যাকেজের পণ্যগুলোর মান অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ার পাশাপাশি আগের তুলনায় দাম প্রায় ২০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
সোমবার উপজেলার বিভিন্ন বিক্রয় কেন্দ্রে সরেজমিনে দেখা যায়, প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত সাবান, ডিটারজেন্ট পাউডার এবং রাইস ব্রান অয়েলের মান নিয়ে সুবিধাভোগীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। কার্ডধারী ক্রেতাদের অভিযোগ, আগের প্যাকেজে সয়াবিন তেল পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা পরিবর্তন করে চালের কুঁড়া থেকে প্রস্তুতকৃত ভোজ্যতেল দেওয়া হচ্ছে, যা স্বাদে ও গুণগত মানে অত্যন্ত নিম্নমানের। এছাড়াও, সরবরাহকৃত সাবান ও ডিটারজেন্ট দিয়ে কাপড় পরিষ্কারের স্বাভাবিক কাজও যথাযথভাবে হচ্ছে না।
প্যাকেজের মূল্য ৪৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৬৮ টাকা নির্ধারণ করায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, উচ্চমূল্যে নিম্নমানের পণ্য কিনতে বাধ্য হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে প্রতারিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে টিসিবি ডিলার মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. বাবলুর রহমান জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে যে পণ্য সরবরাহ করা হয়, তারা মূলত সেগুলোরই বিক্রেতা মাত্র। পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা কিংবা দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে ডিলারদের কোনো নিয়ন্ত্রণ বা ভূমিকা নেই। মানহীন পণ্যের কারণে অনেক গ্রাহক এগুলো নিতে অনীহা প্রকাশ করায় ডিলাররাও ব্যবসায়িক ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম জানান, ঝিনাইদহ থেকে টিসিবির এই পণ্যগুলো সরবরাহ করা হয়ে থাকে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা অবগত হয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। ভুক্তভোগীরা সরকারি পণ্য বিতরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখা ও মানসম্মত পণ্য সরবরাহের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।