তিস্তায় পানি বিপৎসীমার নিচে লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

লালমনিরহাটের তিস্তা নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটেছে। উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণে সোমবার সন্ধ্যা থেকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।

বিজ্ঞাপন

পানির স্তর নেমে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী পাঁচটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল থেকে বন্যার পানি সরতে শুরু করেছে। গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হঠাৎ পানি বাড়ার কারণে অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়লেও এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্রসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী নষ্ট হওয়ায় দুর্ভোগ পিছু ছাড়েনি নদীপাড়ের মানুষের।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার জানিয়েছেন, গত মৌসুমে নদীর তীরবর্তী প্রায় ১১ কিলোমিটার এলাকায় সংরক্ষণমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে নদীর মূল স্রোতধারা সরে যাওয়ায় এবার লোকালয়ে বড় ধরনের প্লাবন এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিতে আরও ১০ কিলোমিটার নদী শাসনের কাজ প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জেলা প্রশাসক রাসেদুল হক প্রধান জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে প্রয়োজনীয় চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদানের জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গুঞ্জন বিশ্বাসও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন আতঙ্কে ভুগছেন স্থানীয়রা। নদীপাড়ের কৃষকদের আশঙ্কা, পানি কমার পাশাপাশি তীব্র নদীভাঙন শুরু হতে পারে, যা বসতভিটা ও আবাদি জমির ব্যাপক ক্ষতিসাধন করবে। দীর্ঘস্থায়ী এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

0%
0%
0%
0%