বাহুবলে মাতৃত্বকালীন ভাতার তালিকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত শত শত গর্ভবতী নারী

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় সরকারি নিয়ম অমান্য করে তাড়াহুড়ো করে মাতৃত্বকালীন ভাতার তালিকা চূড়ান্ত করায় শত শত গর্ভবতী নারী সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসের ১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে অনলাইনে আবেদন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ১০ তারিখের আগেই রহস্যজনকভাবে তালিকা সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। এই অনিয়মের ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের পশ্চিম জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা সিফা আক্তার গত ৪ জুন অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, কোটা পূরণ হয়ে যাওয়ায় আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা সম্ভব নয়। সিফার মতো এমন বহু ভুক্তভোগী নিয়ম মেনে আবেদন করেও ইউনিয়ন পর্যায়ে গিয়ে জানতে পারছেন যে, সরকারি সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তালিকা পূর্ণ হয়ে গেছে। এতে করে প্রান্তিক ও দরিদ্র গর্ভবতী মায়েরা তাদের প্রাপ্য সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপে অনিয়ম কিংবা প্রভাবশালী মহলের প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি। আবেদনকারীদের দাবি, পুরো প্রক্রিয়াটি জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে যাতে প্রকৃত অসহায় নারীরা যথাযথ সহায়তা পান। তারেক রহমানের নির্দেশনায় পরিচালিত বর্তমান সরকারি সেবা কার্যক্রমগুলোতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা প্রশাসনের দায়িত্ব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এ টি এম মোহিতুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উজ্জ্বল রায় এ বিষয়ে জানান, মাতৃত্বকালীন ভাতা কর্মসূচি সম্পূর্ণ নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ার কথা। তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই তালিকা চূড়ান্ত হওয়া কিংবা আবেদন করেও সেবা না পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা মিললে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।