হয়রানিমূলক মামলায় সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

কুমিল্লার হোমনা পৌর সুপার মার্কেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন দিদার আহম্মেদ নামের এক ভুক্তভোগী সাংবাদিক। তিনি দাবি করেন, গত বছরের অক্টোবর মাসে বড় ঘাগুটিয়া গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে স্থানীয় জনতার হাতে হেনস্তার শিকার হওয়া আবু বকর সিদ্দিকের ঘটনায় তাকে মিথ্যাভাবে জড়ানো হয়েছে। এ ঘটনার জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তিনি ২৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে হোমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, ঘটনার দিন তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং এ বিষয়ে কেবল ফেসবুক ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে অবগত হয়েছিলেন। সাধারণ ডায়েরি করার জেরে ২৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে একটি চক্র তাকে সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে চেতনানাশক প্রয়োগ করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রশাসনের তৎপরতায় মিরেরসরাই উপজেলার বিএসআরএম রড ফ্যাক্টরির নিকট থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। সাংবাদিক দিদার আহম্মেদ জানান, পরবর্তীতে আবু বকরের সঙ্গে আপস-মীমাংসার আশ্বাস পাওয়ায় তিনি আইনি ব্যবস্থা নেননি, কিন্তু আবু বকর তার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার না করায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
গত ২৩ জুন ২০২৬ তারিখে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালে তিনি তীব্র সামাজিক ও মানসিক হেনস্তার শিকার হন। এ বিষয়ে আবু বকর দাবি করেছেন, দিদার আহম্মেদ তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন এবং সেই অভিযোগেই তিনি মামলা করেছেন। অন্যদিকে, সাংবাদিককে হাতকড়া পরানোর বিষয়ে হোমনা থানার এএসআই সুজন কুমার দে জানান, আটক ব্যক্তি যে সাংবাদিক তা তিনি জানতেন না এবং এ ঘটনার জন্য তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা টমাস বড়ুয়া জানিয়েছেন, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবাদিক দিদার আহম্মেদ প্রশাসনের কাছে পুরো ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে তাকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় সুধীমহল ও গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
