সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে জলাবদ্ধতায় ৮৩৩ হেক্টর জমি অনাবাদি তিন হাজার টন ধান উৎপাদন ব্যাহত

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার কৃষিপ্রধান জনপদগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে ৮৩৩ হেক্টর আবাদি জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে রয়েছে। বিশেষ করে চান্দাইকোনা ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামের ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে থাকায় কৃষক পরিবারগুলোতে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের ফলে উপজেলার ধামাইনগর, ধুবিল, সোনাখাড়া, পাঙ্গাসী, নলকা, ঘুড়কা, ধানগড়া, চান্দাইকোনা ও ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের ২৪টি এলাকায় প্রতিবছরই এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে।

বিজ্ঞাপন

খাল-নালা ভরাট হয়ে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া, অপর্যাপ্ত কালভার্ট এবং যত্রতত্র পুকুর খননের ফলে জলাবদ্ধতার স্থায়ী রূপ নিয়েছে। বছরের অধিকাংশ সময় ফসলি জমিতে পানি জমে থাকায় বছরে প্রায় দুই হাজার ৯০০ থেকে তিন হাজার ৩০০ টন ধান উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বোরো মৌসুমে সামান্য কিছু জমিতে চাষাবাদ সম্ভব হলেও রোপা আমন আবাদ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যা স্থানীয় খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার সাথে যুদ্ধ করে তারা এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে। চকদাদপুর গ্রামের কৃষক আবদুস সালাম শেখ জানান, সময়মতো জমি চাষ করতে না পারায় ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে। সোনাখাড়া এলাকার আরিফুল ইসলামের ভাষ্যমতে, আগে যে জমিতে বছরে দুটি ফসল হতো, এখন পানির কারণে একটি ফসলও ঠিকমতো ঘরে তোলা যাচ্ছে না। কৃষকরা বলছেন, জমি থাকলেও ফসল না হওয়ার এই যন্ত্রণা তাদের জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম স্বীকার করেছেন যে, দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতা কৃষি উৎপাদনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য খাল খনন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও অবকাঠামোগত আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। স্থানীয় কৃষকদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষি জমি পরিত্যক্ত হওয়ার হার আরও বাড়বে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সৃষ্টি করবে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল খালেক পাটোয়ারী জানিয়েছেন, জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্থায়ী সমাধানের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এর আগে ঘুড়কা ইউনিয়নের নতুনপাড়া এলাকায় গ্রামবাসীর সহযোগিতায় পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে দুই দশকের জলাবদ্ধতা নিরসন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নয়ন দর্শনের আলোকে পর্যায়ক্রমে রায়গঞ্জের প্রতিটি জলাবদ্ধ এলাকা সংস্কারের আওতায় এনে কৃষকদের মুখে হাসি ফোটানোর আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

0%
0%
0%
0%