বাবার সংগ্রামের স্মৃতি থেকে সাফল্যের শিখরে অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রী বোর্সে

দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের বর্তমান সময়ের অন্যতম আবেদনময়ী ও আলোচিত মুখ ভাগ্যশ্রী বোর্সে। অখিল আক্কিনেনির বিপরীতে ‘লেনিন’ সিনেমার আকাশচুম্বী সাফল্য তাকে এনে দিয়েছে তারকাময় খ্যাতি। গ্ল্যামারের ঝলমলে আলোকচ্ছটার আড়ালে থাকা এই অভিনেত্রীর সাফল্যের পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত শৈশবের এক করুণ অধ্যায় সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে শেয়ার করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন এই তারকা।
‘অনেস্ট টাউনহল’ নামক অনুষ্ঠানে নিজের জীবনের কঠিন সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ভাগ্যশ্রী জানান, তার জন্মের পর থেকেই পরিবারকে তীব্র অর্থকষ্টের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তার বাবা চাকরি হারানোর পর পুরো পরিবারের টিকে থাকা এক দুঃসাধ্য লড়াইয়ে পরিণত হয়। শৈশবে অর্থের টানাপোড়েন ঠিকমতো না বুঝলেও, বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি উপলব্ধি করেন তার মা-বাবা কতটা হিসাব কষে জীবন চালাতেন। বাজারখরচের প্রতিটি পয়সার হিসাব রাখা বাবা-মায়ের সেই সংগ্রামের দিনগুলো আজও তার হৃদয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে।
সবচেয়ে মর্মস্পর্শী ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ভাগ্যশ্রী বলেন, বাবার একটি দৃশ্য আজও তাকে তাড়া করে বেড়ায়। তিনি নিজের চোখে দেখেছেন, তার বাবা অন্য কারো কাছে কাজের জন্য মিনতি করছেন এবং বলছেন, ‘আমার দুটি মেয়ে আছে, দয়া করে আমাকে একটি কাজ দিন।’ একজন বাবার এমন অসহায় আত্মসমর্পণ ছোট্ট ভাগ্যশ্রীর মনে জেদ ও সংকল্পের জন্ম দিয়েছিল। তিনি তখনই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, এমন কিছু করবেন যাতে তার বাবাকে আর কখনো কারো কাছে হাত পাততে না হয়। আজকের এই সাফল্যের সবটুকু কৃতিত্ব তিনি উৎসর্গ করেছেন সেই মা-বাবাকেই।
মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদে জন্ম নেওয়া ভাগ্যশ্রীর জীবন কেটেছে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে। নাইজেরিয়ার লাগোসে শৈশবের সাতটি বছর কাটানোর পর ভারতে ফিরে আসেন তিনি। মুম্বাইয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি শুরু করেন মডেলিং। ‘ইয়ারিয়াঁ ২’ ও ‘চান্দু চ্যাম্পিয়ন’-এর মতো সিনেমায় ছোট চরিত্রে অভিনয়ের পর, ২০২৪ সালে ‘মিস্টার বচ্চন’ সিনেমায় রবি তেজার বিপরীতে নায়িকা হিসেবে দর্শকের নজর কাড়েন তিনি।
বর্তমানে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার বড় বড় প্রজেক্টে ভাগ্যশ্রীর জয়জয়কার চলছে। বিজয় দেবরাকোন্ডার ‘কিংডম’, দুলকার সালমানের ‘কান্থা’ কিংবা রাম পোথিনেনির ‘আন্ধ্র কিং তালুকা’—সবখানেই তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন দক্ষ অভিনেত্রী হিসেবে। সবশেষে ‘লেনিন’-এর সাফল্যে মজেছে পুরো ইন্ডাস্ট্রি। অদূর ভবিষ্যতে শিবকার্তিকেয়নের বিপরীতে তামিল সিনেমা ‘সেয়ন’-এ তাকে দেখার অপেক্ষায় দিন গুনছেন তার অগণিত ভক্তরা। শূন্য থেকে উঠে এসে তারকা হওয়ার এই লড়াইয়ে ভাগ্যশ্রী আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার নাম।