শরীয়তপুরে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে নারীকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন ও লাঞ্ছনা

শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর পালং এলাকায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মলি বেগম (৩৭) নামের এক গৃহবধূকে প্রকাশ্যে মারধর করে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীকে মারধরের পাশাপাশি তার মাথার চুল কেটে মুখে কালি মাখিয়ে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকা ঘোরানোর মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী মলি বেগম স্থানীয় প্রবাসী টুটুল সরদারের স্ত্রী। তিনি জানান, দেলোয়ার কোটারির সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন ছিল এবং নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিবদ্ধ হয়েই তিনি টাকা ধার দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে সেই টাকা ফেরত চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে দেলোয়ার কোটারির স্ত্রী ও মেয়েসহ কয়েকজন নারী পরিকল্পিতভাবে তাকে শাবনুর মার্কেটের কাছে আটক করে এই বর্বরোচিত নির্যাতন চালায়।

ঘটনার খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রকাশ্যে নারীর প্রতি এমন নিষ্ঠুর আচরণের নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তবে অভিযুক্তদের পক্ষে মৌসুমি আক্তার সব অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেন যে, মলি বেগমকে মাদক ব্যবসার অভিযোগে এলাকাবাসী আটকে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এ বিষয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, প্রাথমিকভাবে পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সারা দেশে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের বিষয়ে তারেক রহমান বরাবরই সোচ্চার। স্থানীয় প্রশাসনকে এ ধরনের ঘটনার দ্রুত বিচারের আওতায় আনার নির্দেশনার আলোকেই ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

0%
0%
0%
0%