AdvertisementAdvertisement

বিধাননগর থানায় হাজিরা অরূপ বিশ্বাসের তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের আর্জি নিয়ে রাজনৈতিক শোরগোল

কাতার বিশ্বকাপের আসরে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকের পরবর্তী দিনেই বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিলেন ভারতের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫৬ মিনিট নাগাদ তিনি সশরীরে থানায় উপস্থিত হয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হন। ফুটবল জাদুকর মেসির ‘গোয়াট’ ট্যুরের আয়োজক শতদ্রু দত্তের দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই হাজিরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। আইনের শাসনের ওপর আস্থা রেখে শতদ্রু দত্ত জানিয়েছেন, তদন্ত প্রক্রিয়ায় তিনি সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে অরূপ বিশ্বাসের মুখোমুখি বসে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতেও তার আপত্তি নেই।

তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিপুল সংখ্যক কম্প্লিমেন্টারি টিকিট ও অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। শতদ্রু দত্তের দাবি অনুযায়ী, প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী ভয় দেখিয়ে ২২,০০০ টিকিট আদায় করেছিলেন এবং পরবর্তীতে সেগুলো কালোবাজারে চড়া মূল্যে বিক্রি করা হয়েছিল। তার অভিযোগ ছিল, দাবি পূরণ না হলে কলকাতায় মেসির অনুষ্ঠান হতে দেবেন না বলে হুমকি দিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। এর আগে তিনবার সমন এড়িয়ে যাওয়ায় প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিও। মেসির টিমের পক্ষ থেকে পুলিশকে পাঠানো ইমেইলে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সেই সময় অরূপ বিশ্বাস বারবার ফুটবল তারকাকে স্পর্শ করেছিলেন। এই ঘটনার জেরে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল খোদ মেসির নিরাপত্তা দল। একাধিক অভিযোগের চাপে থাকা অরূপ বিশ্বাস এখন আইনি জটিলতার পাশাপাশি রাজনৈতিক সংকটের মুখেও পড়েছেন বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক মহলের অন্দরে গুঞ্জন উঠেছে, অরূপ বিশ্বাস দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে বিশেষ কৌশলী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সূত্র মারফত জানা গেছে, তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে চিঠি দিয়ে তৃণমূলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়েছেন। তার দাবি, দলের ২৮ জন লোকসভার সাংসদের মধ্যে ২০ জন এবং ৫৮ জন বিধায়ক বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন, যার ফলে দলের নেতৃত্বের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ৫৩৮ কোটি টাকা সম্বলিত সেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আপাতত সিল করার আর্জি জানিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%