বান্দরবানে ৪৪ কোটি টাকার পানি প্রকল্প এখন পরিত্যক্ত লুটপাটের কেন্দ্রবিন্দু

বান্দরবান পৌরসভাসহ জেলার চারটি উপজেলায় সুপেয় পানির সংকট নিরসনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নেওয়া কোটি টাকার প্রকল্পগুলো এখন সাধারণ মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও থানচি ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার নবনির্মিত পানি শোধনাগার থেকে এক ফোঁটা পানিও পাননি স্থানীয়রা। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের এমন ভয়াবহ দৈন্যদশা ও অব্যবস্থাপনায় জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বান্দরবান পৌরসভা ও তিনটি উপজেলা সদরে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০২২ সালে প্রায় ৪৪ কোটি ২৫ লাখ ১০০ টাকার বিশাল প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় বান্দরবান পৌরসভার লাঙ্গিপাড়া, নাইক্ষ্যংছড়ির মসজিদ ঘোনা, আলীকদমের থানাপাড়া ও থানচির টিঅ্যান্ডটিপাড়ায় পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হয়। অথচ লামার টিটিএনডিসি এলাকার শোধনাগারটি নির্মাণের পর থেকেই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

প্রকল্পের প্রতিটি স্থাপনার জন্য শুরুতে প্রায় ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও, কৌশলে দফায় দফায় নকশা পরিবর্তন ও রিভাইস দেখিয়ে ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কেবল নাইক্ষ্যংছড়ি প্রকল্পের পেছনেই ব্যয় দেখানো হচ্ছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। সরেজমিনে দেখা গেছে, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শোধনাগারগুলোর ফটকে ঝুলছে তালা, আর অব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও পাইপলাইনে ধরেছে মরচে।

স্থানীয় বাসিন্দা আইয়ুব, শহীদ, শাহাব উদ্দিন ও মামুনুর রশিদসহ ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, মানুষকে পানির স্বপ্ন দেখিয়ে মূলত সরকারি অর্থ লুটপাটের মহোৎসব চলছে। প্রকল্পের বাজেট কম দেখিয়ে টেন্ডার বাগিয়ে নেওয়ার পর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ দীর্ঘায়িত করা এবং বারবার ব্যয় বৃদ্ধি করা এই চক্রের পুরনো কৌশল। রতন সেন, ইউটি মং, মার্মা এন্টারপ্রাইজ ও কামাল হোসেনসহ হাতেগোনা কয়েকটি লাইসেন্স ও সিন্ডিকেট জেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধিকাংশ কাজ নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে ১০ কোটি টাকার তিনটি গ্রুপে উন্নয়ন কাজের টেন্ডারেও অনিয়ম ও তথ্য ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ছয় কোটি টাকার রিজার্ভার নির্মাণ ও জিএফএস প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যাপক দুর্নীতির আভাস পাওয়া গেছে। তবে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ি ও থানচি উপজেলার সহকারী প্রকৌশলীরা তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী শাহ আজীজ ভূমি অধিগ্রহণ সমস্যা ও মালামাল চুরির অজুহাত দেখালেও, নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রতিটি প্রান্তে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসনের এই উদাসীনতা ও অনিয়ম সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

0%
0%
0%
0%