AdvertisementAdvertisement

মৃত্যুফাঁদ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ট্রমা সেন্টারের অভাবে বাড়ছে লাশের মিছিল

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই অংশ বর্তমানে এক নীরব মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। দেশের অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ হিসেবে পরিচিত এই মহাসড়কের এই অংশে প্রতিদিন বাস, ট্রাক ও কনটেইনারবাহী যানবাহনের বেপরোয়া গতির কারণে ঘটছে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। সঠিক সময়ে আধুনিক চিকিৎসার অভাবে সড়কে ঝরে পড়ছে অসংখ্য তাজা প্রাণ, যা জনমনে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

সড়ক দুর্ঘটনার পর প্রথম এক ঘণ্টা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘গোল্ডেন আওয়ার’ হিসেবে বিবেচিত হলেও, এই এলাকায় কোনো আধুনিক ট্রমা সেন্টার নেই। গুরুতর আহত ব্যক্তিদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে দীর্ঘ যানজট ও সময়ক্ষেপণের কারণে অনেকেই পথিমধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। গত এক বছরে কেবল সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই এক হাজার ১৭৩ জন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, যার বাইরেও অগণিত রোগী সরাসরি নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

চিকিৎসাসেবার এই সংকটের পেছনে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও জনবল সংকটকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৬২ সালে নির্মিত ভবনটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ৩৩ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন হাতেগোনা কয়েকজন, যার মধ্যে সার্জারি কনসালট্যান্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদটিও দীর্ঘদিন শূন্য পড়ে আছে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে রোগীর চাপ ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক গুণ বেশি হলেও, ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়িত হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, তারেক রহমান যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, তখন দ্রুত সময়ের মধ্যে এই মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ ট্রমা সেন্টার স্থাপন করা সময়ের দাবি। একইসঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট নিরসন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে এই মৃত্যু মিছিল থামানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%