শ্যামনগরে সরকারি খালের দখল নিয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষে আহত ৮ জন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার খুঁটিকাটা-কাঠালবাড়িয়া গ্রামের সংক্রান্তির খাল এলাকায় সরকারি খালের দখল ও মাছ শিকারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকালে ঘটা এই সহিংসতায় নারীসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় কয়েকজনকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং অন্যদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে জামায়াত নেতা শাহিন হোসেনের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী সংক্রান্তির খালে জাল ফেলে মাছ ধরতে নামেন। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি সেখানে বাধা প্রদান করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।

আহতদের মধ্যে আজহারুল ইসলাম, আশরাফ হোসেন, কবির হোসেন, আব্দুল্লাহ মামুন সাদ, আরাফাত হোসেন, আক্তার হোসেন, নাজমা খাতুন, মোমিন মোড়ল ও লায়লা বেগম রয়েছেন। হামলার সময় ধারালো অস্ত্র ও রড ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের জের ধরে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে ও সেখানে পৌঁছানোর পর নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় শিবির কর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদকে পুনরায় ধাওয়া করে মারধরের অভিযোগ ওঠে।

জামায়াত নেতা শাহিন হোসেন দাবি করেছেন, খালের ইজারার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় দরিদ্র মানুষ মাছ ধরতে গেলে আজহারুল ইসলাম তাদের ওপর হামলা চালান। অন্যদিকে, আজহারুল ইসলামের ভাষ্যমতে, ইজারা নবায়নের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকায় এবং নিজের মাছ চাষ করা থাকায় তিনি বাধা দিয়েছিলেন, যার জেরে তার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। বিএনপি নেতা সোলায়মান কবির জানিয়েছেন, আজহারুল ইসলাম বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত হওয়ায় স্থানীয়ভাবে এই ঘটনায় রাজনৈতিক মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. শাকির হোসেন জানান, আহতদের মধ্যে দুইজনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সব ধরনের নৈরাজ্য প্রতিরোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

0%
0%
0%
0%