কেন ইসরায়েলকে ইউরোভিশন গানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে?

গাজায় ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে ইউরোভিশন গানের প্রতিযোগিতা ২০২৬ ঘিরে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইউরোপের সবচেয়ে জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক সঙ্গীত প্রতিযোগিতার ৭০তম আসর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ১৬ মে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায়। কিন্তু এবারের আয়োজন শুরু হওয়ার আগেই ইসরায়েলের অংশগ্রহণকে ঘিরে একাধিক দেশ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পাঁচ দেশের বয়কট ঘোষণা

ইসরায়েলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, স্লোভেনিয়া, স্পেন এবং আইসল্যান্ড ইউরোভিশন ২০২৬ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। এসব দেশের মতে, গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং সেখানে তৈরি হওয়া মানবিক বিপর্যয় এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ।

এ ছাড়া ১,০০০-এরও বেশি সংগীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মী একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করে একই দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং অন্যান্য দেশকেও বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসরায়েলের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন

ইউরোভিশন প্রতিযোগিতা ১৯৫৬ সালে শুরু হয় এবং এটি ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন (EBU) আয়োজন করে। নিয়ম অনুযায়ী, ইউরোপে কার্যক্রম থাকা যেকোনো সম্প্রচার সংস্থা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে। এই কারণেই ইসরায়েল ১৯৭৩ সাল থেকে নিয়মিতভাবে অংশ নিচ্ছে এবং ২০১৯ সালে তারা প্রতিযোগিতার আয়োজনও করেছিল।

বিজ্ঞাপন

তবে এবার প্রশ্ন উঠেছে—ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়াকে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হলে ইসরায়েলকে কেন একইভাবে নিষিদ্ধ করা হয়নি।

দেশগুলোর অবস্থান

বয়কটকারী দেশগুলো বলছে, ইউরোভিশন একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো উপেক্ষা করা যায় না। তাদের মতে, গাজায় চলমান পরিস্থিতি এবং হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু এই অংশগ্রহণকে গ্রহণযোগ্য করে না।

আয়ারল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আরটিই বলেছে, “গাজায় চলমান ভয়াবহ মানবিক সংকটের কারণে আমরা অংশ নিতে পারি না।” অন্যদিকে স্পেন ও নেদারল্যান্ডসও একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছে।

ইউরোভিশনের অবস্থান

ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন (EBU) জানিয়েছে, ইউরোভিশন একটি নিরপেক্ষ সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম এবং তারা প্রতিযোগিতার ঐক্য ও নীতিকে বজায় রাখার চেষ্টা করছে। এ কারণে ইসরায়েলকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

বিতর্কের মূল বিষয়

এই ঘটনাকে ঘিরে সবচেয়ে বড় বিতর্ক হলো—ইউরোভিশনের মতো একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন কি সম্পূর্ণভাবে রাজনীতি থেকে আলাদা থাকতে পারে, নাকি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বয়কটই হওয়া উচিত নৈতিক অবস্থান?

বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি সঙ্গীত প্রতিযোগিতার বিষয় নয়, বরং ইউরোপের রাজনৈতিক দ্বৈত মানদণ্ড, আন্তর্জাতিক নীতি এবং মানবাধিকার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। ফলে ইউরোভিশন ২০২৬ এখন শুধু একটি সংগীত উৎসব নয়—বরং একটি বড় রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%